• সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৬ ১৪৩০

  • || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
যুক্তরাষ্ট্র যেন বাংলাদেশকে আর মানবাধিকার শেখাতে না আসে: রাষ্ট্রপতি মার্চের দিকে দুর্ভিক্ষ ঘটাতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দেশে দুর্ভিক্ষ ঘটানো : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিডিপিতে বস্ত্র খাতের অবদান ১৩ শতাংশ : প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : রাষ্ট্রপতি নিউজউইকে নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার যাত্রী নিয়ে পর্যটন নগরীতে পৌঁছাল ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঋণ থেকে মুক্ত থাকার দোয়া ও করণীয়

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ঋণের কারণে অনেকের জীবনে দুশ্চিন্তা, অশান্তি ঘিরে ধরে। আবার ঋণ থেকে মুক্তি পেতে অনৈতিক পথ অবলম্বন করেন কেউ কেউ।
আর তাই এই থেকে ঋণ মুক্তি পেতে মানুষের প্রধান দায়িত্ব হলো- মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং দোয়া করা, তিনি যেন ঋণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন।

দয়ার নবী রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِالمَحْيَا وَفِتْنَةِ المَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ   
 
অর্থাৎ: ‘ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। মসিহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই’। (সহিহ বুখারী, হাদিস, ৮৩২)

আরেক হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

অর্থাৎ: ‘ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাবল্য (-এর শিকার হওয়া) থেকে’। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৬৯)

উক্ত দোয়া করার পাশাপাশি ঋণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। তাহলো-

> বিশেষ প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের প্রবল ধারণা ছাড়া ঋণ না নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।

> আয় ও ব্যয়ের মাঝে সমন্বয় করে চলা।

> নামডাক, কৃত্রিমতা ও লোক দেখানো আয়োজন থেকে দূরে থাকা।

> যেসব কাজ আপনার জীবন ও সম্পদে বরকত আনতে সহায়তা করে তা গুরুত্বের সঙ্গে করা। আর যেগুলো বরকত নষ্ট করে তা থেকে সযত্নে বেঁচে থাকা। একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়াও করা।

> বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নিতে হলে সময়মত পরিশোধের নিয়ত রাখা এবং এর জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা।

নিয়ত, দোয়া ও সত্যিকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আল্লাহর সাহায্য সঙ্গে থাকে। তিনি পরিশোধ বা মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন। হাদিসে এসেছে, যে মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে (ঋণ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেন। আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস, ২৩৮৭)

> সময়মত পরিশোধ না করলে ঋণদাতা থেকে কখনো কষ্টদায়ক আচরণ প্রকাশিত হতে পারে। এক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা ও পাল্টা জবাব না দেওয়া কর্তব্য। কোনো বিশেষ কারণ থাকলে তাকে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত।

একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক লোকের কাছ থেকে একটি উটনী ঋণ নিয়েছিলেন। সে তা চাইতে এসে কঠোর ব্যবহার করল। তখন উপস্থিত সাহাবিগণ তার সঙ্গে ঠিক তেমন ব্যবহার করতে চাইলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বাধা দিয়ে বললেন, ‘তাকে বলতে দাও। পাওনাদারের কিছু বলার আছে’। এরপর তাদেরকে তাকে একটি উটনী কিনে দিতে বললেন। তারা খুঁজে এসে বললেন, আমরা (এর সমকক্ষ উটনী পাইনি) এর চেয়ে উৎকৃষ্টই শুধু পেয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটাই কিনে দাও। (জেনে রেখ) তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে পরিশোধে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর’। (বুখারি, হাদিস, ২৩৯০)

> ঋণ দেওয়ার জন্য দাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করা, তার জন্য দোয়া করা। এতে সে খুশি হবে এবং ঋণদানে উৎসাহ বোধ করবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আবী রাবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ হাজার (দিরহাম?) ঋণ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি তা পরিশোধ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের বিনিময় তো হলো পরিশোধ ও কৃতজ্ঞতা।

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ

(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস, ১৬৪১০; সুনানে নাসায়ী, হাদিস, ৪৬৮৩)