• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

পাঁচ হাজার সার্টিফিকেট বিক্রি, ঘরে বসেই কারিগরির ওয়েবসাইটে আপলোড

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৪  

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী একেএম শামসুজ্জামান। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করে নিয়েছেন হাজার হাজার আসল সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি। পড়ালেখা ছাড়াই পাঁচ হাজার লোকের হাতে টাকার বিনিময়ে তুলে দিয়েছে আসল সার্টিফিকেট। আর ঘরে বসেই শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে সেসব সার্টিফিকেট আপলোড করতেন শামসুজ্জামান।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে মূলহোতা শামসুজ্জামান ও তার সহযোগী ফয়সাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের লালবাগ বিভাগ।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আসল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরির সরঞ্জাম।

সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ও আগারগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির ডিবি লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান (এডিশনাল ডিআইজি) জানান, গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একাধিক টিম সোমবার ভোর থেকে তাদের নজরদারিতে রাখে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুরের দক্ষিণ ও মধ্য পীরেরবাগ এবং আগারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এটিএম শামসুজ্জামান ও তার সহযোগী ফয়সাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় কাছাকাছি দুটি বাসায় তাদের হেফাজত থেকে একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করে নেওয়া হাজার হাজার অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি, তৈরি করা শতাধিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট, বায়োডাটা ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার করা হয়।

মশিউর রহমান বলেন, জব্দ করা কম্পিউটার প্রিন্টার ল্যাপটপ দিয়ে গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি আসল সার্টিফিকেট, মার্কশিট বানিয়ে ভুয়া লোকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ওয়েবসাইটে, সরকারি পাসওয়ার্ড, অথরাইজেশন ব্যবহার করে ভুয়া লোকদের কাছে বিক্রি করা সার্টিফিকেটগুলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেকোনো দেশে বসে এ ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর সার্স করলে সার্টিফিকেটগুলো সঠিক বলে প্রমাণিত হবে।

গ্রেপ্তার শামসুজ্জামান সম্পর্কে তিনি বলেন, একেএম শামসুজ্জামানের বাড়ি দিনাজপুরে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে যোগদান করেছেন ২০০৯ সালে। বর্তমানে তার পদ সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার বিভিন্ন থানার আনাচেকানাচে অবস্থিত কারিগরি বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন, রোল নম্বর, সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি, সেগুলো নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড দেওয়া, ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা, কম্পিউটার সিস্টেম কোড সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা বজায় রাখাসহ বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব ডিজিটালাইজেশন এবং কম্পিউটারাইজেশন মূল দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট হওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর কত হাজার পরীক্ষার্থী এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে, কতজন ফর্ম ফিলআপ করে রোল নম্বর পেয়েছে, কতজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি, আবার কতজন কৃতকার্য ও অকৃতকার্য হয়েছে তার সব তথ্যই তার কাছে থাকত। এ বিশাল তথ্য ভাণ্ডার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্তৃপক্ষের সিস্টেম কোড ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বছরে শামসুজ্জামান এবং তার সহযোগীরা লাখ লাখ টাকার সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বাণিজ্য করেছে।

শামসুজ্জামান অফিসের কিছু লোক ও বাইরের বিভিন্ন বিভাগের কিছু দালালকে দিয়ে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট তৈরির এ বাণিজ্য করে আসছিলেন। দালালরা কখনো কখনো ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিত যে তারা অরজিনাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট দেবে যা অনলাইনে ভেরিফায়েড হবে।

ডিবির এ কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালেও মার্কশিট-সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আবার চাকরিতে পুনর্বহাল হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি সার্টিফিকেট মার্কশিট বিক্রি করেছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযান সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, একদিকে মেধাবী ছাত্ররা কঠিন লেখাপড়া করেও ভালো রেজাল্ট করতে পারছে না অন্যদিকে সে (শামসুজ্জামান) তার বাসায় বসে ইচ্ছামতো টাকার বিনিময়ে ভালো রেজাল্ট দিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি করছে। এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আর কোনো কর্মকর্তা এ সিন্ডিকেটে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।