• বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন

প্রস্রাবের ফোঁটা থেকে শরীর-কাপড় পবিত্র রাখার গুরুত্ব

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৩  

শরীর এবং কাপড়ের পবিত্রতার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যেকোনও ইবাদত কবুলের জন্য পবিত্রতা জরুরি। পবিত্রতা ছাড়া কিছুই কবুল হবে না।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ’ (সহিহ মুসলিম: ২২৩)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘... আর পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৯)

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব

মহানবী (স.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর দীনের ভিত্তি স্থাপিত।’ (মাউসুআতু আতরাফিল হাদিস আন-নাবাবি, পৃষ্ঠা-২৯৪)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘ইসলাম পরিচ্ছন্ন। সুতরাং তোমরা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করো। নিশ্চয়ই জান্নাতে কেবল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিই প্রবেশ করবে।’ (ফাইজুল কাদির: ৩০৬৫)

‘প্রস্রাবের ছিটেফোঁটার কারণে কবরের আজাব

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ কবরের আজাব সাধারণত প্রস্রাবের কারণেই হয়ে থাকে।’ (দারাকুতনি, হাদিস : ৪৪৮)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের পিতার মতো। আমি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দিই। তোমরা বাথরুমে গেলে কিবলামুখী হয়ে বসবে না আবার কিবলাকে পেছনে রেখেও বসবে না। ডান হাতে ইস্তিনজা  তথা পবিত্রতা অর্জন করবে না।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি ঢিলা ব্যবহার করতে বলতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা ঢিলা ব্যবহার থেকে বারণ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭)

পেশাব-পায়খানার কিছু সুন্নত

এজন্য পেশাব পায়খানর পর টিস্যু বা ঢিলা দিয়ে পরিচ্ছন্ন হওয়া সুন্নত। এরপর পানি দিয়ে দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে যেন প্রস্রাবের ফোটা আসার যে সম্ভবনা রয়েছে তা যেন আর না থাকে এবং শরীর ও কাপড় পরিপূর্ণ পবিত্র হয়ে যায়। পেশাবের সময় যেন পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করা যায় এজন্য সুন্নত পদ্ধতীগুলো অনুসরণ জরুরি। এখানে পেশাব-পায়খানার কিছু সুন্নত তুলে ধরা হলো-

১. এমন স্থানে প্রস্রাব-পায়খানা করা, যেখানে বসলে মানুষ দেখে না, আওয়াজ শোনে না এবং দুর্গন্ধ আসে না। (তিরমিজি, হাদিস : ২০, আবু দাউদ, হাদিস : ২)
২. নরম ও নিচু স্থান বেছে নেওয়া, যাতে প্রস্রাবের ছিটা শরীরে না লাগে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩, তিরমিজি, হাদিস : ২০)

৩. পায়খানায় প্রবেশের সময় ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস’ পাঠ করা। যারা খোলা মাঠে প্রস্রাব-পায়খানা করবে তারা কাপড় উত্তোলনের আগে এই দোয়া পাঠ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩৯)
৪. নিজের বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসা। এতে মল বের হওয়া সহজ। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৪৬৬, মজমাউজ জাওয়ায়েদ : ১০২০)

৫. বাঁ পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং ডান পা দিয়ে বের হওয়া। (নাসাঈ : ১১১, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৬৩২৬)
৬. মাথা ঢেকে রাখা। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি : ৪৬৪)

৭. কোনো গর্তে প্রস্রাব না করা। কারণ ভেতরে পোকা-মাকড় থাকলে ক্ষতি করার আশঙ্কা প্রবল। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭, শরহুস সুন্নাহ : ১/৫৬)
৮. রাস্তা অথবা কবরস্থানে প্রস্রাব-পায়খানা না করা। (মুসলিম, হাদিস : ৩৯৭, আল ফিকহুল ইসলামী ১/৩০৮, ৩০৯)

৯. এমন ছায়ায় বসে প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, যেখানে মানুষ বসে কথা বলে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৯৭, আবু দাউদ, হাদিস : ২৪)
১০. ফলবান বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব-পায়খানা না করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪, আল ফিকহুল ইসলামী ১/৩১০)