• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন

সুরা আবাসায় কেয়ামতের বর্ণনা সুরা আবাসায় কেয়ামতের বর্ণনা

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৪  

সুরা আবাসা‌ কোরআনের ৮০তম সুরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৪২, রুকু তথা অনুচ্ছেদ ১টি। সুরা আবাসা‌ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুরা আবাসার শানে নুজুল সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, এ সুরাটি অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) সম্পর্কে মক্কায় নাজিল হয়। তিনি কোনো একটি বিষয় জানার জন্য আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে আসেন। ওই সময় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক মুশরিক নেতার সাথে কথা বলছিলেন। এভাবে কথার মধ্যে কথা বলায় (অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইবনে উম্মে মাকতুম পীড়াপীড়ি করায়) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরক্ত হন এবং তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ওই নেতার দিকে মনোযোগ দেন, যাতে তিনি হেদায়াত লাভ করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুরা আবাসা নাজিল হয়। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৩১)

এ সুরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি সমান আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ দরিদ্র ও প্রভাবহীন বলে তাকে অবহেলা করতে এবং প্রভাবশালী ও সম্পদশালী কাউকে বেশি গুরুত্ব দিতে নিষেধ করেছেন। বরং আল্লাহর কাছে আনুগত্যে আগ্রহী দরিদ্র ও প্রভাবহীন বান্দার মূল্য ধনবান অবাধ্য ও উদ্ধত বান্দার চেয়ে অনেক বেশি।

সুরা আবাসার ৩৩-৪২ আয়াতে কেয়ামতের দিনের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

(৩৩)

فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ
ফাইযা জাআতিস সাখখাহ।
অতঃপর যেদিন কান ফাটানো বিকট আওয়াজ আসবে,

(৩৪)

يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ

ইয়াওমা ইয়াফিররুল মারউ মিন আখীহ।
সেদিন পালাবে মানুষ নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে,

(৩৫)
وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ

ওয়া উম্মিহী ওয়া আবীহ।
মা ও বাবার কাছ থেকে,

(৩৬)

وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ

ওয়া সাহিবাতিহী ওয়া বানীহ।
স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে।

(৩৭)
لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ

লিকুল্লিম রিইম মিনহুম ইয়াওমাইযিন শা’নুইঁ ইউগনীহ।
সেদিন এদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে।

(৩৮)
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُسْفِرَةٌ
উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিম মুসফিরাহ।
অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল,

(৩৯)

ضَاحِكَةٌ مُسْتَبْشِرَةٌ
দাহিকাতুম মুছতাবশিরাহ।
সহাস্য ও প্রফুল্ল।

(৪০)

وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ

ওয়া উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিন আলাইহা গাবারাহ।
এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধুলি ধূসরিত।

(৪১)

تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ
তারহাকুহা কাতারাহ।
সেগুলোকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে।

(৪২)

أُولَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ

উলাইকা হুমুল কাফারাতুল ফাজারাহ।
তারা কাফের পাপিষ্ঠের দল।

এ আয়াতগুলো থেকে যে শিক্ষা ও নির্দেশনা আমরা পাই

১. কেয়ামতের দিন হবে ভয়াবহ। সেদিন মানুষ নিজের মুক্তির চিন্তায় অস্থির থাকবে। নিজের অতি-নিকটাত্মীয়কে দেখলেও মুখ লুকাবে ও পালিয়ে বেড়াবে। আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে যাবে না। আত্মীয়তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার মতো অবস্থা মানুষের থাকবে না।

২. দুনিয়াতে অন্যের হক নষ্ট করা, অন্যের ওপর জুলুম করার পরিণতি কেয়ামতের দিন হবে ভয়াবহ। বান্দার হক আল্লাহ মাফ করবেন না। নিজের সওয়াব দিয়ে বা অন্যের পাপের বোঝা নিয়ে এ রকম অন্যায়ের প্রতিবিধান করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন,

مَن كانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لأخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْها، فإنَّه ليسَ ثَمَّ دِينارٌ ولا دِرْهَمٌ، مِن قَبْلِ أنْ يُؤْخَذَ لأخِيهِ مِن حَسَناتِهِ، فإنْ لَمْ يَكُنْ له حَسَناتٌ أُخِذَ مِن سَيِّئاتِ أخِيهِ فَطُرِحَتْ عليه

কারো উপর তার ভাইয়ের কোনো দাবি থাকলে সে যেন তা থেকে মুক্ত হয়। কারণ কেয়ামতের দিন পাওনা পরিশোধের জন্য টাকা-পয়সা থাকবে না। তখন অন্যায়ের সমপরিমাণ সওয়াব পাওনাদারের জন্য নিয়ে নেওয়া হবে। সওয়াব না থাকলে পাওনাদারের গুনাহগুলো তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি ৬৫৩৪)

৩. কেয়ামতের দিন ইমান ও তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তিদের চেহারা হবে সহাস্য, প্রফুল্ল ও উজ্জ্বল। বিপরীতে কাফের ও পাপাচারীদের চেহারা হবে অন্ধকার ও ধুলিমলিন।

৪. আখেরাত, হিসাব ও প্রতিদানে বিশ্বাস মুসলমানদের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস, আখেরাতে অবিশ্বাসী হয়ে কেউ মুমিন হতে পারে না। আখেরাতের বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে অন্তরে ধারণ করা আমাদের কর্তব্য।