• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন

শিবচরে দুই মাসের ব্যবধানে আরও একটি গ্রেনেড উদ্ধার

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের শিবচরে দুই মাসের ব্যবধানে আরও একটি গ্রেনেড সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ উপজেলার ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেপারীকান্দি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে।
এর আগে গত ২ জুলাই রাতে উপজেলার সন্ন্যাসীর চর ইউনিয়নের রাজারচর এলাকার ইজিবাইকচালক জয়নাল আবেদিনের ঘরের শোকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুই ইঞ্চির গ্রেনেডটি। পরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবচর থানার সামনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ৩ ফুট গর্ত করে গ্রেনেডটি বিস্ফোরণে মাধ্যমে ধ্বংস করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ মাস আগে বেপারীকান্দি এলাকার শাহিন ব্যাপারীর ৫ বছর বয়সী ছেলে সিফাত ও ইলিয়াস ফকিরের ৪ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির বাড়ির পাশে একটি মাঠে খেলা করছিল। খেলতে খেলতে মাঠের দক্ষিণ দিকের একটি ঝোপের মধ্যে গ্রেনেড সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পায়। শিশুরা বস্তুটি উদ্ধার করে প্রতিবেশি কৃষক মিজানুর ব্যাপারীর মেয়ে কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তারের কাছে দেখায়। সুমাইয়া বস্তুটি চিনতে না পেরে নিজেদের ঘরে রেখে দেন। শিবচরের সন্ন্যাসীর চরে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডটি বিকট বিস্ফোরণে ধ্বংস সংক্রান্ত একটি সংবাদ নজরে আসে সুমাইয়ার। পরে সুমাইয়া গ্রেনেড চিনতে পারে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে শিবচর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিক ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. সেলিম রেজার নের্তৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই বাড়িতে পৌঁছে গ্রেনেড সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে।
মিজানুর রহমানের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২০) বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে শিশুরা এই গ্রেনেড সদৃশ্য বস্তুটি পেয়ে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি মনে করেছি একটি লৌহ জাতীয় কিছু হবে। ধারণা বা চিন্তাও করতে পার নাই যে, এটি গ্রেনেড বা বোমা হতে পারে। তাই ওটা ঘরেই ফেলে রেখেছিলাম।বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রেনেড উদ্ধারের পরে ধ্বংস করছে পুলিশ এমন সংবাদ না দেখলে আমার জানাই হতো না এটি আসলে কতটা ভংকর। যদিও পুলিশ গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিয়ে গেছে, তারপরেও গ্রেনেডটি কথা চিন্তাা করে এখনো ভয় হচ্ছে।’
ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘৯৯৯ কল পেয়ে ওই বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজন গ্রেনেড সদৃশ একটি বস্তু আমাদের কাছে দেয়। আমরা বালতির মধ্যে বালু চাপা দিয়ে গ্রেনেড সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আদালতকে অবগত করা হবে, আদালত থেকে সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত গ্রেনেটটি সচল আছে কি না তা বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করা হবে। তবে গ্রেনেডটি মরিচা পড়ে আছে। এই গ্রেনেডটিও দুই ইঞ্চি লম্বা। আগের উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডের সাথে এটি বেশি মিল রয়েছে।’