• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন

আগামী এডিপিতে নেয়া হচ্ছে রেকর্ড বিদেশি ঋণ

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৪  

বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থ সংকটে রয়েছে সরকার। পুরোনো দেনার বোঝা নামাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে নতুন ঋণের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এ কারণে আগামীতে আরো মাশুল গুনতে হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একদিকে অতিমাত্রায় ঋণ নেয়া, অন্যদিকে ডলারের বিনিময়ে টাকার ধারাবাহিক দর পতনের কারণে চাপের বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বের হওয়া যাচ্ছে না।

এ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বিদেশি ঋণের সুদ-আসল পরিশোধে ৬৭ শতাংশ বেশি টাকা খরচা করতে হয়েছে। ডলারের হিসাবে যা ৪৮ শতাংশ। এ সপ্তাহের শুরুতে ডলারের দাম আরেক দফা বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমেই তলানিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ এখন ১৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ উদ্দেশ্যে আগামী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) রেকর্ড ১ লাখ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা ছিল ৯১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ চাহিদার চেয়েও ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নেয়া হচ্ছে। এ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপিতে বিদেশি ঋণ বাড়ছে প্রায় ২০ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা ১৬ হাজার ৫০০ কোটি। এর আগে অন্য কোনো অর্থবছরে এডিপিতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ এত বেশি ছিল না।

পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) অনুমোদনের জন্য এ খসড়া তোলা হবে।

আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। ১ লাখ কোটি টাকা হিসাবে মোট এডিপিতে বিদেশি ঋণের প্রস্তাবিত পরিমাণ প্রায় ৩৮ শতাংশ। এ অর্থবছরের এডিপিতে এ উৎসের বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত এডিপিতে তা ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় কমিয়ে আনা হয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার দ্বান্দ্বিক সমস্যায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে অর্থ সংকট দেখা দেবে। বিদেশি ঋণ নিলে পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাবের আশায় এডিপিতে বেশি পরিমাণ বিদেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।