• সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

চীন ছেড়ে বিশ্ব ব্যাংক-এডিবিতে ঝুঁকছে সরকার

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

নির্বাচনের পর সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটা চাপের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক সংকট দৃশ্যমান। বিশেষ করে নতুন অর্থমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে সামনের দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে টান এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের যে চাপ সেটি মোকাবিলার জন্যই সরকারকে বেশি চেষ্টা করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট কাটিয়ে তোলার জন্য সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ এবং কৌশল গ্রহণ করছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বৈদেশিক ঋণ সুদসহ পরিশোধের যে তাগিদ সেটি এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এরকম অবস্থায় সাধারণত বিভিন্ন দেশ ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ঋণ পরিশোধের জন্য চটজলদি তারা সহজ ঋণপ্রাপ্তির উৎসগুলো খুঁজে এবং বিশ্বে এখন সহজ ঋণ প্রাপ্তির একমাত্র উৎস হল চীন। অনেক দেশই চীনের ফাঁদে পড়ে সহজ উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে সংকটকে আরও গভীর করে। যেমন; সংকটকে গভীর করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশ এক্ষেত্রে নির্বাচনের পরপর বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে তা ইতিবাচক। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল বাংলাদেশ নগদ ডলারের জন্য বা ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংগ্রহের উৎস হিসাবে চীনকে বেছে নেননি। বরং বিশ্ব ব্যাংক, এডিবির দিকে ঝুঁকছে সরকার।

বাংলাদেশ সফর করে গেলেন বিশ্ব ব্যাংকের অপারেশন শাখার এমডি আন্না বিজার্ড এবং এই সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং এখানে বাংলাদেশের পাশে বিশ্ব ব্যাংক থাকবে।

একইভাবে বাংলাদেশ এডিবি, আইএমএফ এর কাছ থেকেও ঋণ সহায়তা নিচ্ছে। চীনের ঋণের চেয়ে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এবং এডিবি ঋণের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। চীনের ঋণের সুদের হার অনেক বেশি এবং এই ঋণ পরিশোধ করার সময়সীমা খুব কম। অন্যদিকে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি বা আইএমএফের ঋণের সুদের হার অনেক কম এবং একটা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার পরপরই এটি শোধ দেওয়ার চাপ থাকে না।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল যে, আইএমএফ বিশ্ব ব্যাংক বা এডিবি থেকে ঋণ নিলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি চাপ থাকে। আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক বা এডিবি শুধু ঋণ দেয় না, তারা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, অর্থনীতিতে সুশাসন এবং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে চায়। আর এ কারণে তাদের সুস্পষ্ট কিছু পরামর্শ এবং নির্দেশনা থাকে। যেমন; আইএমএফ বাংলাদেশকে যে বড় অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে, সেই ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। সেই শর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, ঋণখেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, রাজস্ব আয়ের আহরণ বৃদ্ধি ইত্যাদি। এই সব কিছুই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।

চীনের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। চীন ঋণ দেয় প্রকল্প ভিত্তিক এবং প্রকল্প গুলো বাংলাদেশের স্বার্থে কিনা সেটি ভাবনা চিন্তা করার সুযোগ একেবারেই কম থাকে। যেমন; শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা কালে চীনের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং চীনের কাছ থেকে এমন সব প্রকল্পের ওপর ঋণ নিয়েছিল যে প্রকল্প গুলোর উপযোগিতা নেই। বাংলাদেশ সেই ভুলটি করেননি। বরং বাংলাদেশ একদিকে যেমন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর কাছ থেকে স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ নেওয়ার দিকে ঝুঁকেছে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরে আনার জন্য তাদের পরামর্শ গুলো গ্ৰহণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীন নির্ভরতা কমে যাওয়ার একটা পদক্ষেপ শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।