• মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
পুলিশ জনগণের বন্ধু, সে কথা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, পুলিশকেও সেভাবে আধুনিক হতে হবে পুলিশ সপ্তাহ শুরু, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করলে ভোট পাবেন: জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম কেউ যেন ভুয়া ক্লিনিক-চিকিৎসকের দ্বারা প্রতারিত না হন: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারকে মাটি-মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হবে

ভার্চুয়াল সম্মেলনে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা জঙ্গিদের!

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩  

বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে ‘খেলাফত প্রতিষ্ঠা’র জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’। যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনটির নেতারা বর্তমানে অনলাইনে আবার সক্রিয় হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংগঠনটির অনলাইন একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন করে। অনলাইন সম্মেলনটি লেবাননভিত্তিক একটি ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করা হয়। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা।

হিযবুত তাহরীরের অন্যতম শীর্ষ নেতা তৌহিদুর রহমান তৌহিদ ওরফে সিফাত (২৯) নামে একজনকে গ্রেফতার পর জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসে। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

২০০৩ সালের একটি সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের প্রকাশ্য প্রচেষ্টায় সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হিযবুত তাহরীর প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তারা প্রচলিত আইন মানে না বলেও প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ২০০৯ সালে হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকে আত্মগোপনে থেকেই সংগঠনটির নেতারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গ্রেফতার তৌহিদ সম্পর্কে সংস্থাটি বলছে, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে হিযবুত তাহরীরের ফুলটাইম সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিল। তৌহিদ ২০১১ ও ২০১৯ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১২ বছরে তৌহিদ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে চলে আসে। সে হিযবুত তাহরীরের শীর্ষ দুই-তিন জনের মধ্যে একজন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হিযবুত তাহরীর একটি অনলাইন সম্মেলন করে। তারা সম্মেলনের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার টানায়, অনলাইন প্রচারণা ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। সম্মেলনে নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তাদের সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা। সম্মেলনে দুজন বক্তা ও একজন উপস্থাপক অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে। সম্মেলনে বক্তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে উপস্থাপন করে। আবার ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েও দেশের সাধারণ মানুষকে হিযবুত তাহরীরের নেতৃত্বে শাসন ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য উসকানি দেয়। 

ডিএএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অনলাইন সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন গ্রেফতার তৌহিদুর রহমান। আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার তৌহিদকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

তৌহিদ

তিনি বলেন, হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনও বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শুরু থেকেই এ সংগঠনের সদস্যরা দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াসে একটি অনলাইনে দেশবিরোধী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে। 

এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত কয়েক বছর ধরে অনলাইন সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সত্ত্বা বা সংগঠনকে সমর্থন করে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত, গণতন্ত্রকে উৎখাত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার ষড়যন্ত্র করে আসছে, জানান আসাদুজ্জামান।

যেসব এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নেই বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম, সেসব স্থান আগে থেকে রেকি করে তারা পোস্টার লাগাতো বলে জানান সিসিটিসি প্রধান। তিনি আরও বলেন, তারপরও পোস্টার লাগানোর সময় আমরা অনেককে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেছি। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার চ্যালেঞ্জ ছিল। তারা হাইলি রেডিক্যালাইজড, কাটআউট পদ্ধতিতে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এমনকি নিচের সারির কাউকে গ্রেফতার করা গেলেও তার উপরের কারও বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যেতো না। 

সংগঠনটি সাধারণত উচ্চবিত্ত ও মেধাবীদের টার্গেট করে প্রচারণা চালায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের ভাবনা, যদি এই শ্রেণিকে রিক্রুট করতে পারে প্রতিষ্ঠিত সমাজে সমর্থন পাবে এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তারা সদস্য সংগ্রহের জন্য বিশ্বিবদ্যালয়গুলোকেও টার্গেট করে।’