• সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

ধার শোধ না করে মধ্যস্থতাকারীকেই গলাকেটে হত্যা

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

ব্যবসার জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার করে এনে আরেক অংশীদার তাজুলকে দিয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম। শর্ত ছিল ১ মাসের মধ্যেই পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো সাইফুল ইসলামকেই গলাকেটে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, হত্যার দায় চাপানো হবে যারা টাকা ধার দিয়েছেন তাদের ওপর। পরিকল্পনা অনুযায়ী গা ঢাকা দিয়েছিলেন সবাই। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এবং পরে র‌্যাব-৩ এর হাতে আটক হয়েছেন ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায় গলাকেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. জুনায়েদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৩ গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মূলত, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে গলাকেটে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন সাইফুলের স্ত্রী বাদী হয়ে ব্যবসায়িক অংশীদার তাজুল ইসলাম ও অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তিনি জানান, ভিকটিম সাইফুল এবং আসামি তাজুল নরসিংদী জেলার শিবপুর একই এলাকার বাসিন্দা। তারা দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে গরুর ব্যবসা করতেন। ব্যবসার জন্য ভিকটিম সাইফুল অপর দুই ব্যবসায়ী হাসিম ও মোমেনের কাছ থেকে এক মাস পরে পরিশোধ করবেন এমন শর্তে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার করে এনে অংশীদার তাজুলকে দেয়। শর্ত অনুযায়ী ১ মাস শেষে তাজুলের কাছে  টাকা চাইলেই সমস্যার শুরু হয়।

অপরদিকে হাসিম ও মোমেন তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার কারণে ভিকটিম সাইফুলকে চাপ প্রয়োগ ও কটূক্তি করতে থাকেন। ফলে ভিকটিম সাইফুল মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। পরে তিনি (সাইফুল) এলাকার স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় একটি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে তাজুলের সঙ্গে টাকা পরিশোধের বিষয়টি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তি করে নেয়। এতে শর্ত থাকে ১৫ দিনের মধ্যে তাজুল সাইফুলকে সব টাকা পরিশোধ করে দেবেন। তবে চুক্তির স্ট্যাম্পে সই হওয়ার পর তাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে সালিশ থেকে উঠে যায় এবং সাইফুলকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে নিহত সাইফুল স্থানীয় ত্রিশা বাজারে একটি চায়ের দোকান থেকে ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর থেকে ভিকটিম সাইফুলের পরিবার তার ফোন বন্ধ পায়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সকালে নোয়াদিয়া কান্দাপাড়া পঞ্চগ্রাম ঈদগাঁ মাঠে সাইফুলের গলাকাটা ও মাথা বিচ্ছিন্ন  মরদেহ পাওয়া যায়।

সাইফুলকে হত্যা করে দায় হাসিম ও মোমেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা অপরাধীদের ছিল জানিয়ে আরো জানানো হয়, নিহত সাইফুলের সঙ্গে তাজুলের টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে মনোমালিন্যের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাইফুলকে হত্যা করে পাওনাদার দায় হাসিম ও মোমেন এর ওপর চাপিয়ে দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাজুল, জুনায়েদ, সোলাইমান, শাকিল ঈদগাঁ মাঠে অবস্থান করেন। পরে সাইফুলকে ব্যবসার কথা বলে ফোন করে ঈদগাঁ মাঠে ডেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাজুল ও সাইফুল কথা কাটাকাটি করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাজুল সাইফুলের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। সেইসঙ্গে জোনায়েদ এবং শাকিল সাইফুলকে জাপটে ধরে। এতে করে সাইফুল অজ্ঞান হয়ে যায়। ওই অবস্থায় ভিকটিম সাইফুলকে এই মামলার আসামি জুনায়েদের সহায়তায় তাজুল দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে সবাই পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্যান্য আসামিদের অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পরে তাজুল এবং সোলাইমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়। তাজুলের স্বীকারোক্তি এবং সোলাইমানের জবানবন্দিতে এই নৃশংস হত্যার অন্যতম সহযোগী জোনায়েদ এবং শাকিলের নাম প্রকাশ পায়। ঘটনার পর থেকেই জোনায়েদ এবং শাকিল পলাতক ছিলেন।

একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানানো হয়েছে।