• শনিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৯

  • || ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর প্লিজ যুদ্ধ থামান, সংঘাত থামাতে সংলাপ করুন: শেখ হাসিনা হানিফের সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা

এনআইডি বাতিলের আইন হচ্ছে শিগগিরই

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

সরকার প্রয়োজনবোধে যে কোনো ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাতিল করতে পারবে। নতুন এমন ধারা সংযুক্ত করে জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি কয়েক দফা পর্যালোচনার পর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিউল আজিম (আইন ও বিধি অনুবিভাগ) বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইন সংশোধন করে নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ জন্য আইনের খসড়াটি আমাদের এখান থেকে যাচাই করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বিধি-বিধানের সঙ্গে কোথাও কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা দেখে দেওয়া হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’

বিদ্যমান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০-এর বাতিল সংক্রান্ত ধারায় বলা আছে- ‘কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব অবসান হইলে তাহার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত জাতীয় পরিচিতি নম্বর অন্য কোনো নাগরিকের বরাবরে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা যাইবে না।’
নতুন আইনের এই ধারায় আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ধারা যোগ করা হয়েছে। আগের ধারা কিছুটা সংশোধন করে বলা হয়েছে- ‘কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব অবসান হইলে বা তিনি মৃত্যুবরণ করিলে তাহার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত জাতীয় পরিচিতি নম্বর অন্য কোনো নাগরিকের বরাবরে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা যাইবে না।’ নতুন ধারায় বলা হয়েছে- ‘সরকার প্রয়োজনবোধে যে কোনো ব্যক্তিকে কারণ দর্শাইয়া তার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাতিল করতে পারবে।’

প্রস্তাবিত আইনে জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের দণ্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং সর্বনিম্ন দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করলে বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অন্য কারও পরিচয়পত্র বহন, পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞাতসারে মিথ্যা বা বিকৃত বা তথ্য গোপন করলে অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের কথাও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থদণ্ড হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ অর্থদণ্ডের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হতে পারে। একইভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা এই আইন দ্বারা বা ইহার অধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতকরণ, বিতরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধকের নিকট সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিকৃত বা বিনষ্ট করলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করেছেন বলিয়া গণ্য হবে।

উপরোক্ত অপরাধের জন্য তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত কোনো তথ্য বিকৃত অথবা বিনষ্ট করলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। এরূপ অপরাধের জন্য তিনি দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া এই আইনে অভিযোগ, তদন্ত ও বিচার-আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ১৮৯৮ সালের সিআরপিসির বিধান প্রযোজ্য হবে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, একজন নাগরিককে একটি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। যেটা স্ব-স্ব নাগরিকের একক নিবন্ধন নম্বর হিসেবে সব জায়গায় ব্যবহার হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধকের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ‘নিবন্ধককে তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি সরবরাহ ও সহায়তায় বাধ্যবাধকতা’ শীর্ষক একটি ধারায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে তথ্য দিতে বাধ্য করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘নিবন্ধকের চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কমিশন বা সংস্থা উহাদের নিকট সংরক্ষিত তথ্য, কাগজপত্র ইত্যাদি নিবন্ধককে দিতে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।’

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন আইনের খসড়ায়  ভোটার তালিকা প্রসঙ্গটি এবার থাকছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি আইনের প্রাথমিক খসড়ায় রাখা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়নের একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হওয়ায় সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের আইনে ‘ভোটার তালিকা’ প্রসঙ্গটি না রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ভোটারের বিষয়টি আইনে থাকলে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। এসব বিবেচনায় আইনটি একেবারে সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত গাইডলাইন থাকছে। ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০’ অনুযায়ী বর্তমানে এনআইডি দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের মে মাসে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত কার্যক্রম সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন আইন প্রণয়নের পর নতুন অধিদফতর গঠন করে দায়িত্ব বুঝে নেবে সরকার। মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া পাস হওয়ার পর কয়েক ধাপ পেরিয়ে সেটা জাতীয় সংসদে পাস হবে। তবে তার আগেই জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগ গঠন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। এ বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগ’ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে বৈঠক হয়েছে।