• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বাণিজ্যের আধুনিকায়ন অপরিহার্য: এফবিসিসিআই

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৪  

২০৪১ সালে একটি আধুনিক, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে বাণিজ্যের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। তাই স্মার্ট বাণিজ্যের জন্য ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

রোববার (৩ মার্চ) ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্মার্ট ট্রেড ফর স্মার্ট বাংলাদেশ: ওয়ে ফরওয়ার্ড’ বিষয়ক এক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেন।

 এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার সবসময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাই সরকার দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভ্যালু চেইন উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে এক উদীয়মান শক্তি। এই টেকসই প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে গত দেড় দশক ধরে আইসিটি খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তৈরি হয়েছে এক নতুন অধ্যায়।
 
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনা সরকারের একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত, কেননা উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এরইমধ্যে স্মার্ট দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশও স্মার্ট দেশে রূপান্তরের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধানই হচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’।
 
স্মার্ট ইকোনমি গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষি, স্মার্ট বাণিজ্য, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন মাহবুবুল আলম। কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে স্মার্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এসব পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্টের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
 
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যে ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে তা মোকাবিলায় অন্যতম হাতিয়ার হবে জিআই পণ্য ও প্যাটেন্ট। রফতানি বাড়ানোর জন্যই পণ্যের জিআই সার্টিফিকেট দেয়া প্রয়োজন। তাই ক্রস বর্ডার ট্রেড বাড়াতে জিআই পণ্যগুলো অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, পণ্য  আমদানি ও রফতানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে এখন বর্তমানে যথেষ্ট শিথিলতা অবলম্বন করা হচ্ছে। দেশে এখন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। তাই বিভিন্ন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, কৃষকদের সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে সার সরবরাহের জন্য ‘স্মার্ট ফার্টিলাইজার ডিস্ট্রিবিউশন’ অ্যাপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি কার্যকর করতে পারলে একদিকে যেমন কৃষকদের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
 
দেশের নারী উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার। এই খাতগুলোর সমৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও ছিলেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, এফবিসিসিআইর প্যানেল উপদেষ্টা পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ, ড. অনন্য রায়হান প্রমুখ।