• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

ভূমধ্যসাগরে আরও ২ যুবকের মৃত্যুর খবরে মাদারীপুরের শোকের ছায়া

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালী যাবার সময় ভূমধ্যসাগরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আরও দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। শুক্রবার দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে আহাজারি শুরু হয়। এর চারদিন পর মঙ্গলবার (২০ ফ্রেব্রুয়ারি) আরও দুইজনের মৃতুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্বজনরা। আদরের সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা তাদের পরিবার। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ৪ যুবকের মৃত্যুর খবরে রাজৈর উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রশাসন বলছে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে নিহতদের বাড়ি গেলে স্বজনরা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, গত ২ মাস আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের কিশোরদিয়া গ্রামের মৃত তোঁতা খলিফার ছেলে কায়সার খলিফা (৩৫), বাজিতপুর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে সজীব কাজী(১৮), খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল  গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২০) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২৫) সহ বেশ কয়েকজন যুবক ইতালীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে গত বুধবার লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় গেম দেয় তাদের। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নৌকায় ৫২ জনকে নিয়ে ইতালী যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার ভুমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে কায়সার, সজীব, মামুন ও সজলসহ ৯ জন মারা যায়। পরে খবর পেয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। এছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছে একই উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর কদমবাড়ি গ্রামের পরিতোষ বিশ^াসের ছেলে নয়ন বিশ^াস(২০)।

নিহত কায়সার খলিফার স্ত্রী নাজমা বেগম জানায়, রাজৈরের পাইকপাড়া ইউনিয়নের দামেড়চর গ্রামের মোতালেব মাতুব্বরের ছেলে অবুঝ মাতুব্বর প্রথমে সাড়ে ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া নেয়। পরে বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় দেয়ার কথা বলে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে ছোট একাটি নৌকায় পাঠালে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে আমার স্বামী মারা যায়। সব কিছু বিক্রি করে এবং সুদে টাকা এনে স্বামীকে বিদেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন আমার সবই শেষ হয়ে গেল। আমার দুটি মেয়ে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। দালাল অবুঝ ইতালি থাকে, বাংলাদেশ থেকে তার বাবা মোতালেব চুক্তির টাকা সংগ্রহের কাজ করে বলে জানান তিনি।

নিহত সজীব কাজীর বাবা মিজানুর রহমান কাজী জানায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের গজনিয়া গ্রামের রহিম দালালের সাথে ১৪ লাখ টাকা চুক্তি হয়। রহিমের ভাই কামাল আমার কাছ থেকে নগদ ১২ লাখ নিয়ে আমার ছেলেকে লিবিয়া পাঠায়। পরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালী পাঠানোর সময় ঘটে এই দুর্ঘটনা। শুনেছি আমার সজীব আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। দুইদিন পরে মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

নিখাঁজ নয়ন বিশ্বাসের ভাই আকাশ বিশ্বাস জানায়, আমার ভাই ঢাকার এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়েছিল। পরে এ দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। কিন্তু দালালের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। সে বলেছে আমার ভাই ভাল আছে।

সরকারীভাবে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। এই ঘটনার অভিযুক্ত দালালরা দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া ও ইতালিতে বসবাস করায় তাদের পরিবারের লোকজন এখান থেকে টাকা সংগ্রহের কাজ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার আসাদ জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। নিহতদের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এর “ইম্প্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা ২) এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর জয় বনিক জানান আমরা খবর পেয়ে নিহতের বাড়ীতে গিয়ে খোজঁ খবর নিয়েছি তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের লাশ আনার ব্যপারে সহযোগীতা করতে চেয়েছিলাম কিন্ত আমরা জানতে পেরেছি ইতি মধ্যে ইউরিপিয়ান ও বাংলাদেশ দুতাবাস লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহন করছে তাই আমরা আপাতত ঐসব এলাকায় সচেতনা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।