• মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
পুলিশ জনগণের বন্ধু, সে কথা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, পুলিশকেও সেভাবে আধুনিক হতে হবে পুলিশ সপ্তাহ শুরু, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়েছে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করলে ভোট পাবেন: জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম কেউ যেন ভুয়া ক্লিনিক-চিকিৎসকের দ্বারা প্রতারিত না হন: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারকে মাটি-মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়তে হবে

৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২৩  

আজ ০৭ ডিসেম্বর ‘নোয়াখালী মুক্ত দিবস’। ১৯৭১ সালের এদিন ভোরে বৃহত্তর নোয়াখালীর মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং সি-জোনের কমান্ডার মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা শহর মাইজদী আক্রমণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

একযোগে তারা তিনটি রাজাকার ক্যাম্প দখল করেন। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্থানীদের এদেশীয় দালাল রাজাকাররা।

এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী পিটিআই’র ট্রেনিং সেন্টার থেকে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় পাকিস্থানী সেনারা, শত্রুমুক্ত হয় নোয়াখালী।

পূর্ব কথা: ০৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। সি-জোনের গুপ্তচরের মাধ্যমে জানতে পারে জেলা শহর মাইজদীতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাৎক্ষণিক জোনের রাজনৈতিক প্রধান আলী আহম্মদ চৌধুরীসহ অন্যান্য কমান্ডারা জরুরি বৈঠকে বসেন এবং নোয়াখালী শহরে অবস্থিত পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

০৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এবং ডি-জোনের কমান্ডার রফিক উল্যাহ্’র বাহিনীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা সবাই মিলে যৌথ অভিযান চালিয়ে মাইজদী ভোকেশনাল, নাহার মঞ্জিল, কোর্ট স্টেশন, রৌশন বাণী সিনেমা হল, দত্তের হাট, কোল্ড স্টোরেজসহ সব রাজাকার ক্যাম্প বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে নিয়ে আসে। বাকি ছিল শুধু পাকিস্থানি বাহিনীর মূল ক্যাম্প মাইজদী পিটিআই। অন্য সবগুলো ক্যাম্প দখল নেওয়ায় একা হয়ে যায় পিটিআই।

বিজয় কথা: একদিকে সাধারণ মানুষের আনন্দ মিছিল, অন্যদিকে আক্রমণ করতে হবে পিটিআই। পিটিআই হোস্টেল দিঘির উত্তর পাড়ে তিনতলা ভবনে রাজাকারদের হেড কোয়াটার ছিল। কিন্তু এ ভবন ভাঙার মতো কোনো বিধ্বংসী অস্ত্র ছিল না বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। তাই ফেনী থেকে একটা ২ ইঞ্চি মর্টার এনে তা থেকে তিন তিনটা মর্টার সেলের দ্বারা পিটিআই হোস্টেলে আক্রমণের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে মাইজদী শহরে সর্বশেষ রাজাকার ক্যাম্পের পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর শহর মাইজদীর হেড কোয়ার্টার হানাদারমুক্ত করা হয়। জেলা শহরের চারিদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিপাগল মানুষের আনন্দ জোয়ারের ঢল ওঠে।

প্রজন্ম কথা: নতুন প্রজন্মের কাছে ০৭ ডিসেম্বরের স্মৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাকিস্তনি বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী পিটিআই সম্মুখে স্থাপন করা হয় স্মরণিকা স্তম্ভ ‘মুক্ত নোয়াখালী’। আর বর্তমান সরকার মতায় আসার পর একই স্থানে বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয় নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চ।

আজকের কথা: আজ ৭ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নোয়াখালী মুক্ত দিবস পালনে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে ৭ ডিসেম্বর উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে দুপুর আড়াইটায় পিটিআই সংলগ্ন নোয়াখালী মুক্ত মঞ্চের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।  

একই স্থান থেকে ২টা ৪৫ মিনিটে বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। বিকেল সোয়া ৩টার বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাসঙ্গিক কথা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে পাকিস্থানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিকামী ছাত্রজনতা পুলিশ ও ইপিআর ফেরত জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার মুখে বীর মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে পিছু হটলে নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্থানিরা। নোয়াখালী পিটিআই এবং বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে এদেশীয় রাজাকাররা মিলে শুরু করে লুটপাট।  

এরই মধ্যে নোয়াখালীর অসংখ্য ছাত্র জনতা প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত থেকে এসে পাকিস্থানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে। কোম্পানীগঞ্জের বামনীর যুদ্ধ, বেগমগঞ্জের বগাদিয়াসহ অসংখ্য যুদ্ধ হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। শহীদ হন শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র সোনাপুরের শ্রীপুরে তারা হত্যা করেছিল শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নোয়াখালীর প্রত্যন্ত প্রান্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানিদের পিছু হটিয়ে দেয়। ৬ ডিসেম্বর দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা বেগমগঞ্জ মুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গোটা নোয়াখালী।