• সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

বরিশালে ১৬ হাজার হেক্টরে সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএডিসি

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

দেশীয় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকার তহবিলে বিএডিসি বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ২৮ উপজেলায় অতিরিক্ত সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে ৬৬ হাজার টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক এর সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন লাভের পর তা মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি অর্থ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ‘চলতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী’-আরএডিপি’তে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ২৩ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।

প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সেচযোগ্য জমির অর্ধেকও এখনো সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। বিগত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচাবাদ হলেও তারমধ্যে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসি’র অবদান ছিল মাত্র ২০ হাজার হেক্টরেরও কম। উপরন্তু বিগত রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন  মাপের যে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার সেচ পাম্প মাঠে ব্যবহৃত হয় তার মাত্র সাড়ে ৯শর মত ছিল বিদ্যুৎ চালিত।

সরকার ২০০২-০৩ সাল থেকে কৃষিসেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে ২০% ভর্তুকি প্রদান করলেও অধিক ব্যয়বহুল ডিজেল চালিত পাম্পে কোন ভর্তুকি নেই। আর বরিশাল অঞ্চলে সেচ কাজে ব্যবহৃত ৯৫ভাগ সেচ যন্ত্রই ব্যয়বহুল ডিজেল চালিত। ফলে এ অঞ্চলে অত্যাধিক সেচ ব্যয়ের কারণে ধানের উৎপাদন ব্যয়ও দেশের যেকোন স্থানের চেয়ে বেশী। এতে একদিকে রবি মৌসুমে সেচাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে না, অপরদিকে অধিক ব্যয়বহুল সেচ ব্যয়ের কারণে তাদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ সেচ যন্ত্রের অর্ধেক বিদ্যুতায়িত করতে পারলে এ অঞ্চলের খাদ্য উদ্বৃত্ত অনায়াসে ২০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলেও মনে করছেন কৃষিবীদরা। পাশাপাশিএ  অঞ্চলে অব্যাহত লোকাসানে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোও আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করছেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা।

এসব বিবেচনায় বিএডিসি চলতি অর্থ বছর থেকে বরিশাল অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আড়াইশ বিদ্যুৎ চালিত সেচযন্ত্র সংগ্রহ ছাড়াও ১ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ২০টি সোলার লো-লিফট পাম্প সেট সংগ্রহ করে কৃষকদের সরবরাহ করবে।

প্রকল্পটির আওতায় বিএডিসি ২৫০টি এক ও দুই কিউসেক সেচযন্ত্র সংগ্রহ, ৩২৫ কিলোমিটার ছোট সেচ খাল পুনঃখনন, ৫০টি বড় সেচ খাল পুণঃখনন এবং প্রতি কিলোমিটারে ৪টি করে বিভিন্ন খালের পাড়ে প্রায় দেড় হাজার পানি নির্গমন স্থাপনা নির্মান করবে। প্রকল্পটির আওতায় ৪ হাজার ঘন মিটার করে ৩০টি পুকুর পুণঃখননেরও লক্ষ্য রয়েছে। যেসব পুকুর থেকে বিভিন্ন জমিতে সেচ প্রদানও সম্ভব হবে। একইসাথে প্রকল্পটির আওতায় ৩২৪ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা এবং ৪০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান ছাড়াও ৩০ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা দ্বারা ভূ-উপরিস্থিত সেচনালা প্রতিস্থাপন করা হবে। এছাড়া ২৫০মিটার করে ৪০টি ভূ-গর্ভস্থ নিষ্কাশন নালা, ৩০টি পানি নিয়ন্ত্রন অবকাঠামো বা রেগুলেটর নির্মান করা হবে এ প্রকল্পটির আওতায়।

বরিশাল অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩শ টি ওয়াটার পাম্প,পাইপ কালভার্ট ও ক্যাটল ক্রসিং নির্মিত হবে। পাশাপাশি সমাপ্তকৃত প্রকল্পের ১ ও ২ কিউসেক লো লিফট পাম্প-এলএলপি’র ২শটি পাম্প হাউজ নির্মান সহ ফলের বাগান সমূহে সাড়ে ৭শ সেট সোলার ড্রিপ ইরিগেশন সিষ্টেম নির্মান করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় পুণঃখননকৃত খালে কৃষি পণ্য ওঠানামার সুবিধার্থে ১৫টি আরসিসি ঘাটলাও নির্মিত হবে এ প্রকল্পের আওতায়। একইসাথে কৃষিপণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতি পরিবহনে দেড়শ অবকাঠামো নির্মিত হবে।

সেচ কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতায় ১শটি ব্যাচে বিপুল সংখ্যক কৃষককে প্রশিক্ষনেরও ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সেচনালা নির্মানের লক্ষ্যে প্রায় ৩শ সেট ১ কিউসেক ও ২ কিউসেক ইউপিভিসি পাইপ সেট সংগ্রহ করে স্থাপন করা হবে। একইসাথে ২০টি সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহৃত লো লিফট পাম্প সংগ্রহ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। পরবর্তিতে সমাপ্তকৃত প্রকল্পটির সোলার এলএলপি গুলোতে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।

২০২৬-এর ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৬ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে বাড়তি সেচ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ১৪ টন খাদ্য উৎপন্ন হবে বলে আশা করছে বিএডিসি’র দায়িত্বশীল মহল। একইসাথে ফলের বাগানেও সেচ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়বে বলেও আশাবাদী কৃষিবীদরা।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, আমরা প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তাবায়নের চেষ্টা করছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি প্রধান বরিশাল অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।