• সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন

সুন্দরবনে বাঘের মুখ থেকে রক্ষা পেল ৩১ পর্যটক

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে বাঘের মুখ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো ৩১ পর্যটক। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন পুলিশ ও বনরক্ষীরা। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পর্যটন স্পট করমজল এলাকা সুন্দরবনের গহীন থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এর আগে পথ হারিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা বনের ভেতর আটকা পড়েন এ পর্যটকরা।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের চিতলমারি থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ ৩১ জনের একটি কিশোর পর্যটক দল সুন্দরবনের করজলে ভ্রমণে আসে। বন বিভাগের কাউকে কিছু না জানিয়ে পায়ে হেঁটে তারা বনের গহীনে চলে যায় এবং পথ হারিয়ে ফেলে। সেখান থাকা বাঘ ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সবশেষ দুপুর আড়াইটার দিকে পর্যটকদের মধ্য থেকে ফেরদৌস নামে একজন ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চায়। এ সময় তার ফোনে চার্জ না থাকায় দ্রুত অন্য পর্যটকদের বেশ কয়েকটি নম্বর সংগ্রহ করা হয়। পরে পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ টিম বনের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়।

এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের সন্ধান মেলে। দীর্ঘ সময় বনের মধ্যে থাকায় পর্যটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের উদ্ধার করে করমজল থেকে নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে এনে চিতলমারী উপজেলায় পাঠানো হয়।

উদ্ধার হওয়া পর্যটক ফেরদৌস জানান, ‘আনন্দের ছলে বনের প্রবেশ করি। কিন্ত যখন পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন অনেক ভয় করছিল। আশপাশে বাঘসহ হিংস্র প্রাণীর আনাগোনা ছিলো, এতে ভয়ের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ বুঝি বাঘ এসে থাবা দিলো! তবে সবশেষ উপায় না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সাহায্য চেয়েছি। আগে জানতাম না, জাতীয়  ৯৯৯-এ ফোন দিলে প্রশাসন এতো দ্রুত সহায়তা করে। পুলিশ ও বন বিভাগের সহায়তায় উদ্ধার হতে পেরেছি।’

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, যে এলাকায় এ ৩১ পর্যটক প্রবেশ করেছে, সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বনরক্ষী ছাড়া কেউ প্রবেশ করে না। ওখানে বাঘ ও হিংস্র বন্যপ্রাণীর আনাগোনা রয়েছে। বাঘের আবাসস্থলে গিয়ে থামে পর্যটকরা। ভাগ্যের ফলে জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছে তারা। আরেকটু দেরি হলে হয়তো বড় বিপদ হতে পারতো।

মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, দুপুরের পর জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন আসে সুন্দরবনের করমজলের ৩১ জন পর্যটক পথ হারিয়ে বনের গহীনে আটকা পড়েছে। পরে বনের গহীনে তল্লাশি করে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এরপর নিরাপদে তাদের নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে কয়েকবার করমজলের পাশে খালের পাড়ে বাঘ দেখা গেছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।