• শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১৩ ১৪৩১

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাগুলোর অন্তরালে একটা স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ছিলো

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

এবার এক বিশেষ সময়ের মুখে এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন মানুষকে, সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আসছে মার্চে।

স্বাধীনতার জন্য তাঁর দীর্ঘ ত্যাগী সংগ্রাম একাত্তরে খুঁজে পায় কাংখিত ঠিকানা। বঙ্গবন্ধুর নামেই জীবন উৎসর্গ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে এই ভুখন্ডের মানুষ একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

কী করে বাঙ্গালির স্বাধীনতার ঠিকানা, মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু? যাদুর ছোঁয়ায় কোন স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিলেন তিনি মানুষের হৃদয়ে?

মানুষকে চিনবার ও মনে রাখার যাদুকরি ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর মধ্যে দেখেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ের স্বাক্ষীরা। মত আর আদর্শের ভিন্নতার উর্ধে সবাইকে কাছে টানতেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার ছাত্রলীগ নেতা ও চিত্রনায়ক সোহেল রানা বলেন, “বঙ্গবন্ধু সেই ভাষায় কথা বলতেন যে ভাষাটা আমি আপনি থেকে শুরু করে বাসার কাজের লোকটাও বুঝে এবং একইরকম অনুভুতি হয় হুদয়ের মধ্যে। সেইটা উনি (বঙ্গবন্ধু) জানেন, উনি জানতেন।”

পাকিস্তানে বন্দি থাকলও বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব কতটা শক্তিশালী তা অনেকেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেয়ার সময় অনুধাবন করেছিলেন। রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ভাষণের পরে আমরা যে যুদ্ধে যাব ও তার প্রস্তুতি, সকল কাজগুলো কিন্তু বঙ্গবন্ধু করে ফেলেছিলেন। আর ছাত্র রাজনীতি থেকে এই দেশ স্বাধীন, ফাদার অব দ্য নেশন হওয়ার আগ মহূর্তে তিনি কিন্তু কোন দুই কথা বলেন নাই। উনি কিন্তু বাংলার মানুষের সাথে কোন বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করেন নাই। উনি মুখে যেটা বলেছেন, সেই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করেছেন।”

রাজনীতিবিদ এবং আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনাগুলো দিতেন, এর অন্তরালে, পর্দার অন্তরালে কিন্তু আমাদের আসলে এই দেশের একটা স্বপ্ন ছিল। এবং একটা প্রস্তুতি ছিল, সেটা আমরা বুঝতে পারতাম না তখন। ৭ই মার্চের ভাষণে উনি আমাদের বুঝিয়েছিলেন যে পরবর্তী ধাপটা কি।”

দীর্ঘ বন্দি জীবনে বঙ্গবন্ধুর ওপর মানুষের ভরসার জায়গায় চির যেন না ধরে সেই কাজটি নেপথ্যে যিনি করেছিলেন সেই বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথাও উঠে আসে সময়ের স্বাক্ষীদের বিশ্লেষণে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার ছাত্রলীগ নেতা ইসমত কাদীর গামা বলেন, “দুপুর একটা, ১২টার দিকে কেউ আসলে ভাবির (ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) প্রথম কথাই ছিল, এই খাইছিস, নইলে খেয়ে যা। একবোরে মায়ের মতো ছিল। ভাবি বলতাম, কিন্তু একেবারে মাতৃত্ব হৃদয় দিয়ে উনি আমাদের এইভাবে বলতেন।”

সোহেল রানা বললেন, “তার (বঙ্গবন্ধু) বক্তব্যগুলোই আমাদের রক্তের মধ্যে একদম আগুন ধরিয়ে দিত। এবং মনে করতো যে হ্যাঁ আমরাতো মানুষ, আমরাতো বাংলাদেশী, আমরা বাংলাদেশের বাঙ্গালী, আমাদের পরিচয় বাঙ্গালী। আমাদেরকে পাকিস্তানীরা প্রতি মহূর্তে, প্রতি পদে পদে আমাদেরকে এক্সপ্লয়েট করছে। এইটার প্রতিবাদতো বঙ্গবন্ধু যেভাবে করতেন, সেই প্রতিবাদ অন্য কেউ করে নাই।”

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গোপালঞ্জের ছাত্রনেতা চৌধুরী ইমদাদুল হক বললেন, “বঙ্গবন্ধু আগেই স্বাধীন দেশের জাতীয় সঙ্গীত ঠিক করে রেখেছিলেন। ... চাঁদ দেখছিলেন, হঠাৎ উনার (বঙ্গবন্ধু) মনের মধ্যে কী যেন হলো। উনি একটা গান শুরু করে দিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। কেউ বলেছে কবিতা, রবি ঠাকুরের কবিতা বলে, না এটা শুধু রবি ঠাকুরের কবিতা না, এইটা রবি ঠাকুরের শুধু গান না। এইটা আমি (বঙ্গবন্ধু) একটা দেশ গড়বো, সেই দেশের জাতীয় সংঙ্গীত হবে এইটা। এইটা আমি বানাইয়া বলতেছিনা, আমি মিথ্যা কথা বলতেছিনা। আমি একটা দেশ গড়ব, একটা দেশ তৈয়ার করব, সেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে এইটা। বঙ্গবন্ধু কতো সুদূরপ্রসারী! সেই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কিন্তু রবি ঠাকুরের সেই কবিতা।”