• শনিবার   ২০ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৪ ১৪২৯

  • || ২২ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:

পদ্মা সেতুর সুফল: এখন থেকে প্রতি সপ্তাহেই বাড়ি যাওয়া যাবে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২২  

শিবচর প্রতিনিধিঃ

পদ্মাসেতুর ফলে ঢাকায় কর্মরতরা এখন থেকে প্রতি সপ্তাহেই বাড়ি ফিরতে পারার অাশা প্রকাশ করছেন। ছুটির দিন পরিবার নিয়ে কাটিয়ে আবার ঢাকায় গিয়ে অফিস করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

জানা গেছে,দক্ষিণাঞ্চলের করিডর খ্যাত বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে গত দশদিন আগেও ছুটির দিনে অর্থাৎ শুক্র ও শনিবারকে সামনে রেখে গ্রামের বাড়িতে ফেরার চাপ দেখা গেছে সাধারণ মানুষের। পরিবারের সাথে একটু সময় কাটিয়ে প্রফুল্ল মনে আবার কর্মস্থলে যোগ দেয়া। তবে নৌরুটের ভোগান্তির চিন্তা মাথায় রেখে অনেকেই বাড়ি ফিরতে নানা চিন্তা-ভাবনা করতো। মাসে একবারের জায়গায় একাধিক বার বাড়ি ফেরার কথা ভাবতো না। 

পদ্মা সেতু চালু হবার পর প্রথম শুক্রবার আজ ১ লা জুলাই। এই ছুটির দিনে দক্ষিণাঞ্চলের মাদারীপুরে অসংখ্য কর্মজীবিদের নিজ বাড়িতে দেখা গেছে। তাদের সাথে অালাপ করে জানা গেছে,'এখন বাড়ি ফিরতে কোন বাধা নেই। আমাদের মতো দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের ঘরে ফেরার ভিড় দেখা গেছে পরিবহনে। সকলেই বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। শনিবার বিকেল বা রোববার খুব ভোরে ঢাকা পৌছে অফিস করবেন তারা।'

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই ভাঙ্গা-যাত্রাবাড়ী এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের বেশ চাপ দেখা গেছে। মহাসড়কের টোলপ্লাজার নিকট দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী একাধিক পরিবহনের চালকেরা জানান,'শুক্রবার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়া যাত্রীদের সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে যারা ঢাকায় চাকুরি করেন, তারা ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছেন। পদ্মাসেতু না থাকলে শুধু শুক্রবারের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরা মানুষের তেমন চাপ ছিল না। পদ্মাসেতু বাড়ির সাথে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ করে দিয়েছে।'

মো.আজিজুল মুন্সী নামের শিবচরের এক ব্যক্তি বলেন,'শুক্রবার ছাড়া তেমন ছুটি পাই না। আগে শুক্রবারের দিন ঢাকায় নিজের রুমে নিরানন্দ কাটাতো। পদ্মাসেতু চালুর পরেই আজকের শুক্রবার নিয়ে অনেক আগ্রহে ছিলাম। বাড়ি ফিরতে হবে। আগে ঢাকা টু বাড়ি ৪/৫ ঘন্টার দূরত্ব ছিল। একই সাথে যাত্রা পথের নানান ধকল তো আছেই। কিন্তু আজ যেন নিমেষেই বাড়ি চলে এলাম!'

তিনি আরও বলেন,'ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বাড়িতে এসে সবার সাথে সকালের নাস্তা করা যায়। এখন মন চাইলেই বাড়ি আসতে পারবো।'

আবির হাসান নামের ভাঙ্গার এক ব্যক্তি বলেন,'ঢাকা থেকে আমার বাড়ি এখন এক সড়কের পথ। গাড়ি থেকে নেমেই বাড়ির পথ। কোন ভোগান্তি নেই। পদ্মা পার হবার টেনশন নেই। রাত হয়ে যাওয়ার উৎকণ্ঠা নেই। এখন ছুটির দিন মানেই বাড়ি চলে আসা।'

মো.শাহজাহান বলেন,'বাড়ি ফেরার আনন্দই আলাদা। এখন আর ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না। ঢাকা থেকে এক বাসেই বাড়িতে পৌছাতে পারছি।'

মো.সোহাগ হাওলাদার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন,'আমার প্রতি সপ্তাহেই ঢাকা যেতে হয় ব্যবসার কাজে। ঢাকা থেকে সন্ধ্যার আগেই ঘাটে এসে পৌছানোর যেন চিন্তা থাকতো এখন তা আর নেই। কাজ সেড়ে রাতেও রওনা দিয়ে বাড়ি ফিরা যায় এখন।'

গত ২৫ জুন উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। উদ্বোধনের পর শুক্রবার(১ জুলাই) প্রথম সরকারি ছুটি। ঢাকায় চাকুরিজীবি অসংখ্য মানুষ ছুটির দিনে বাড়ি ফিরে আসছেন পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। তাদের ভাষ্য,'পদ্মাসেতুর ফলেই আজ প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের মুখ দেখতে পারবো!'