• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

বরগুনায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২২  

সুন্দরবন ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বরগুনা। সিডরে এই জেলার অসংখ্য স্থাপনা ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙেছে বাঁধ। সাময়িকভাবে এসব মেরামত করা হলেও স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়নি দীর্ঘদিন। সিডর বয়ে যাওয়ার ১৪ বছর পর বরগুনায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেকের (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভায় অনুমোদন হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বরগুনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল খনন, রেগুলেটর মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা— পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব কাজ বাস্তবায়ন করবে। এর মাধ্যমে জেলার নদীভাঙন রোধ ও প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা, সাগর থেকে লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

একই সঙ্গে পায়রা নদীর ভাঙন থেকে বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা করতেও একটি প্রকল্প নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭৫১ কোটি ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলা ঘিরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

২০২১ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শতভাগ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পায়রা নদীর ৫ কিলোমিটার তীর ও ৫ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে। ১৮০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও ৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত করা হবে।

একই সঙ্গে ৬১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। ১৫ কিলোমিটার খালের কচুরিপানা অপসারণ করা হবে। ১২টি রেগুলেটর নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করা হবে। ৬টি রেগুলেটর মেরামত করা হবে। ৫টি সেতু ও ৪৪ হাজার ৩৫২টি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্পটি চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মর্সচি) এডিপিতে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পানিসম্পদ সেক্টরের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীতীর সংরক্ষণ, নদী বা খাল খনন, পুনঃখননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধ করে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সঙ্গতিপূর্ণ।

একনেকে উপস্থাপনের আগে প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া মতামতে কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলী উপজেলার রাস্তাঘাট, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোগুলো পায়রা নদীর ভাঙন হতে রক্ষা করাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও লোনা পানি প্রবেশ রোধ করা সম্ভব হবে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বরগুনা জেলার অধীন পোল্ডার ৪৩/১ ও ৪৪বি পুনর্বাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পায়রা নদীর ভাঙন হতে প্রতিরক্ষা প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা যেতে পারে।

বরগুনার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এটি একটি শুভ সংবাদ। সিডরে এলাকার খাল-বিল, নদীনালা, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পলি জমে খাল ভরাট হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের প্রকোপ বেড়েছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে বছরের পর বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যাগুলো থাকবে না।

পনিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হলো। এতে ওই এলাকার মানুষ নদীভাঙন, লোনা পানির প্রবাহ এবং ফসলহানির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পানি সম্পদ সেক্টরের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীর তীর সংরক্ষণ, নদী বা খাল খনন, পুনঃখননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধ করে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। এক্ষেত্রে প্রকল্পটি এলাকার মানুষের কল্যাণে আসবে।