• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

‘পালিয়ে বেড়ানোর অভ্যাস হয়েছে, টাকা পরিশোধের অভ্যাস করুন’

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২২  

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিনের দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘পালিয়ে বেড়ানোর অভ্যাস হয়েছে, টাকা পরিশোধের অভ্যাস করুন।’ গ্রেফতার করে তাদের হাজির করার পর বুধবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় তাদের বাবা খবির উদ্দিনসহ পরিবারের ৯ সদস্য পলাতক রয়েছেন। আদালতে দুই বোনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আবু তালেব।

এদিন হাইকোর্ট তার আদেশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেফতার পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিনের দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদকে প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫ শতাংশ টাকা (প্রায় ১০ কোটি) পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাদের দুজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখতে বলেন আদালত। পাশাপাশি ওই দুজনের পরিবারের ঋণখেলাপি বাকি ৯ সদস্য পাসপোর্ট জমা না করা পর্যন্ত দুই বোনের পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে আইনজীবীর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালত আসামিদের উদ্দেশে বলেন, পালিয়ে বেড়ানো অভ্যাস হয়ে গেছে। টাকা জমা দেওয়ার অভ্যাস করুন। কানাডায় পালিয়ে বেড়ান, অথচ টাকা জমা দেন না। এক মাস সময় দিয়েছি, টাকা জমা দিয়ে আসুন।

 

র‌্যাব হেফাজতে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদ

এর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিন নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে প্রায় দুইশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরমধ্যে তার দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন ৬৪ কোটি।

এদিকে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ২৮ জুলাই তারা দেশে আসেন। এরপর আজ বুধবার (২৪ আগস্ট) ভোরে দুজনকে রাজধানীর ধানমন্ডি ও শ্যামলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

দুই বোনকে গ্রেফতারের পর র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী। কর্মরত থাকাকালে নিজে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে বেনামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

'গ্রেফতার দুজন তাদের বাবা সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিনের মাধ্যমে ঋণ নেয়। শারমিন ৩১ কোটি ও তানিয়া ৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। তারা গত ২৮ জুলাই কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং আজ পুনরায় গোপনে কানাডার উদ্দেশে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করছিল।'

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে নানা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির কারণে ২০১৯ সালে কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময় আদালত পি কে হালদারসহ প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর গত ৭ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির ঋণখেলাপিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। তবে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল তাদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।