• শনিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৯

  • || ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর প্লিজ যুদ্ধ থামান, সংঘাত থামাতে সংলাপ করুন: শেখ হাসিনা হানিফের সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করবে মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা

হান্টার বাইডেনকে লবিস্ট নিয়োগ দিতে তারেকের তৎপরতা

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর শীর্ষ নীতি নির্ধারকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কুলাঙ্গার ছেলে হান্টার বাইডেনের সাথে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের পক্ষে জো বাইডেনকে প্রভাবিত করার বিনিময়ে হান্টার বাইডেনকে পরামর্শমূলক ফি হিসাবে মোটা অঙ্কের ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ থেকে পলাতক দুর্নীতিবাজ নেতা তারেক রহমানের প্রতিনিধি। উইকলি ব্লিটজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  সম্প্রতি একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁস হওয়া ইমেইল মাধ্যমে উক্ত তথ্য প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বর্ণনা এমন:

নোভা (ছদ্ম নাম), একজন ৩৫ বছর বয়সী লাটভিয়ান মহিলা, দুবাইয়ের একটি পিআর এজেন্সিতে প্রতি মাসে আট হাজার মার্কিন ডলার বেতনভুক্ত সবচেয়ে কার্যকর নির্বাহী হিসাবে কাজ করছিলেন। শহরের বেশিরভাগ কর্পোরেট পার্টি এবং ইভেন্টে তাকে দেখা যায়। নোভার বড় বোন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং তার প্রেমিক হান্টার বাইডেনের ফার্মে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করেছেন। নোভা বোস্টনের একটি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন, যখন তার বাবা-মা ডেলাওয়্যারে থাকেন। নোভার একজন সিনিয়র বন্ধু, একজন ইউক্রেনীয় মহিলা। যিনি একটি এসকর্ট এজেন্সিতে কাজ করছিলেন এবং বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে হান্টার বাইডেনের সাথে দেখা করেছিলেন। তিনি হান্টার বাইডেন এবং লুন্ডেন রবার্টসের গোপন সন্তান 'নেভি জোয়ান'-কে নিয়ে উদ্ভুত সমস্যাগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, হান্টার বাইডেন ২০১৭ সালে নেভি জোয়ানের পিতা হন যখন তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। জো বাইডেন কখনই শিশুটিকে তার পরিবারের সদস্য হিসাবে স্বীকৃতি দেননি। হান্টারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ, নেভি জোয়ান ডিসেম্বর ২০১৭ সালের দিকে লুন্ডেন রবার্টসের গর্ভে আসে যখন বহুগামী হান্টার তার নিজ ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী হ্যালি বাইডেনের সাথে অন্য এক গোপন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।

ডিএনএ পরীক্ষা অনুযায়ী হান্টার বাইডেন নেভি জোয়ানের জৈবিক জনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। হান্টার বাইডেন যখন লুন্ডেন রবার্টসের সাথে একটি মীমাংসা করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টারত ছিলেন, তখন নোভার সিনিয়র বন্ধু - ইউক্রেনীয় এসকর্ট বিষয়টি সমাধানে হান্টার বাইডেনকে সাহায্য করেছিলেন। সেখানেই সেই ইউক্রেনীয় এসকর্ট মহিলা এবং হান্টারের মধ্যে একটি উষ্ণ সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। হান্টার বাইডেনের এই নারী লোলুপতা অবশ্য সর্বজনবিদিত।

অন্য এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, 'যৌনকর্মীর বিল পরিশোধের জন্য বাবার দেয়া টাকাই ব্যবহার করতেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হান্টার বাইডেন কিয়েভ ও মস্কোতে একটি মডেল এজেন্সিকে এসকর্টের (যৌনকর্মীর) বিল বাবদ ৩০ হাজার ডলার (তৎকালীন ২৭ লাখ টাকা) পরিশোধ করেন।

ওয়াশিংটন এক্সামিনারের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ৩০ হাজার ডলারের বিল তিনি শোধ করেন ২০১৮-এর নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তৈরি করছিলেন। এই সময়জুড়ে জো বাইডেন তার ছেলেকে ১ লাখ ডলার দিয়েছিলেন বিল পরিশোধের জন্য। হান্টার বাইডেন কীভাবে এই অর্থ ব্যয় করছেন তা জো বাইডেন জানতেন কি না, স্পষ্ট নয়'।

ফিরে আসি পূর্বের প্রতিবেদনে, দুবাইয়ের শুধুমাত্র হাতে গোনা কিছু লোক হান্টার বাইডেনের কাছে পিআর লবিস্ট নোভার দূরবর্তী এই সংযোগ সম্পর্কে সচেতন ছিলো – যেটা ছিলো তার বড় বোনের বয়ফ্রেন্ড এবং তার সিনিয়র বন্ধুর মাধ্যমে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি ২০০৭ সাল থেকে লন্ডনে স্ব-নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন, তিনি তার সহযোগী - মুশফিকুল ফজল আনসারীকে হান্টার বাইডেনের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করা যায় তার খোঁজ করতে বলেছিলেন। মুশফিক প্রথমে উইলিয়াম বি মাইলমের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। মাইলম এ বিষয়ে রাজি না হওয়ায় মরিয়া মুশফিক অন্য চ্যানেলে চেষ্টা শুরু করেন।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মুশফিকুল ফজল আনসারী “জাস্ট নিউজ” নামের একটি ভুঁইফোড় ওয়েবসাইটের “ইউএস করেসপন্ডেন্ট” হওয়ার ভান করে হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা হিসাবে নিজেকে নথিভুক্ত করতে সফল হন। যদিও বাংলাদেশে এই ওয়েবসাইটের কোনো অস্তিত্ব বা অফিস নেই। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতার পরিচয় ব্যবহার করে, মুশফিকুল ফজল আনসারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন, যদিও তিনি জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ তিনি গোপন করেছেন। জেএমবি- বাংলাদেশে একটি জিহাদি সংগঠন যা পরবর্তীতে আল কায়েদার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে আনসার আল ইসলাম নামে পুনঃব্র্যান্ডড হয়েছিল।

মুশফিকুল ফজল আনসারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনসংযোগ সংস্থা (পিআর এজেন্সী) থেকে নোভা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। যারা হান্টার বাইডেনের সাথে তার পরোক্ষ সংযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলো। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তারেক রহমানকে জানানো হয় এবং পরে তার নির্দেশনা অনুযায়ী মুশফিকুল দুবাইয়ে তার এক আস্থাভাজন মোস্তফাকে নোভার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে জো বাইডেনকে প্রভাবিত করার বিনিময়ে নোভাকে বিএনপির পক্ষ থেকে হান্টার বাইডেনকে প্রতি মাসে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার "পরামর্শ ফি" দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য একটি বার্তা পৌছে দেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠিত হলে এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় ফিরে যেতে সহায়তা করা হলে হান্টারকে ৫০ মিলিয়ন(৫ কোটি) মার্কিন ডলারের প্রদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।