• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৬ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিটিং করছে বিএনপি: হাছান মাহমুদ

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২২  

বিএনপি নাম ও সাইনবোর্ডসর্বস্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিটিং করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি) এই মিটিং দেখে অনেকে আবার নতুন দল গঠনে উৎসাহী হচ্ছে। বিএনপি কখন তাদের ডাকে–এ ধরনের পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে তারা লাশ সৃষ্টি করতে চায়। আর আগস্ট মাস এলেই তাদের এই প্রবণতাটা আরও বেড়ে যায়। সে জন্য ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি। সারা বাংলাদেশে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে পাঁয়তারা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের গত কয়েক দিনের উসকানিমূলক বক্তব্য এটিই প্রমাণিত হয়। তবে জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না।’

বুধবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ সময় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক এ এস এম আবুল হোসেন, সিনিয়র প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ান, আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক হীরক খান উপস্থিত ছিলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির রাজনীতিটা লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান লাশের ওপর পাড়া দিয়েই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। এবং ক্রমাগতভাবে বহু সৈনিকের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। ১৯টা ক্যু হয়েছে, শত শত নয়, কয়েক হাজার সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকেও হত্যা করেছেন তিনি। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে ক্রমাগতভাবে লাশ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, এরপর বেগম খালেদা জিয়াও একই পথ অনুসরণ করেছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে কীভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষকে পুড়িয়ে লাশ বানিয়ে সেই লাশ আবার পুড়িয়ে অঙ্গার করে ফেলেছে। লাশের ওপর দাঁড়িয়েই তাদের রাজনীতি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভোলায় তারা যে মিছিল ও সমাবেশ করবে তা পুলিশকে জানায়নি। এরপরও পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে। যখন তারা দোকানপাট ভাঙচুর এবং পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করল, বিএনপির সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়া হয়েছে। সেই গুলিতে পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছে, আরেকজন কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএনপি অফিসে মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। সেখানে তাদের দুজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। আগে যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, ডাক্তারের রিপোর্ট হচ্ছে তার হেড ইনজুরিতে মৃত্যু হয়েছে। হেড ইনজুরি ইটপাটকেলের আঘাতেই হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ইটপাটকেল তো বিএনপিই ছুড়েছে। তাদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর দায়-দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির। প্রকারান্তরে তাদের মৃত্যুর জন্যও দায়ী বিএনপি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটার নিয়েই প্রথম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে ভারতের পক্ষ থেকে একটি ট্রান্সমিটার তাদের দেয়া হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র। ট্রান্সমিশন যাতে আরও ভালো হয়, সে জন্য সলিমপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে দেশের বেশির ভাগ জায়গায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র শোনা যায়।