• শনিবার   ২০ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৫ ১৪২৯

  • || ২২ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:

স্বস্তিতে দক্ষিণাঞ্চলবাসী

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২২  

শিবচর প্রতিনিধিঃ

উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পদ্মাসেতু। রোববার ভোর থেকেই সেতু ব্যবহার করতে পারবে সাধারণ মানুষ। পদ্মাসেতু উদ্বোধনকে ঘিরে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে আয়োজিত জনসভায় দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে অসংখ্য মানুষ। সেতু উদ্বোধন শেষে জনসাধারনের মুখে একটাই কথা,'ঢাকা যেতে আর কোন বাঁধা থাকলো না আমাদের। পদ্মা পার হবার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হলো। এখন থেকে স্বস্তিতে আমরা।'

জনসভা শেষে আগত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের এই মনোভাব। 

ভাব বিক্রেতা ইয়াছিন বলেন,'পদ্মাসেতু আমাদের জন্য আশির্বাদ। আমরা রাজধানীতে এখন সহজেই যেতে পারবো। গ্রাম থেকে ডাব সহজেই শহরে পাঠিয়ে বিক্রি করতে পারবো।'

মো.ইউসুফ নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন,'পদ্মাসেতু না হলে এই এলাকার এতো উন্নয়ন হতো না। এই সেতু আমাদের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।'

সরেজমিনে শনিবার জনসভাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, সকল বয়সী মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দেশের দক্ষিনের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ আসে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে। বিলাসবহুল অসংখ্য লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ আশে সভাস্থলে। 

এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকে বাসযোগেও সমাবেশে যোগ দেয় প্রচুর মানুষ। পদ্মাসেতুর এ্যাপ্রোচ সড়কজুড়ে আটকে থাকে কয়েক হাজার বাস। পায়ে হেটে সমাবেশ যোগ দেন তারা।

লঞ্চঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ'র পক্ষ থেকে নতুন অস্থায়ী ১৫ টিসহ মোট ২০ টি লঞ্চঘাটে 

সুন্দরবন ৯, এমভি জামাল, প্রিন্স আওলাদসহ অনেকগুলো বিলাসবহুল লঞ্চে আসে হাজারো মানুষ। নদী থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনেন তারা।

এদিকে লঞ্চঘাট এলাকায় সমাবেশ আসা সাধারণ মানুষের মাঝে সকাল থেকেই পানি বিতরণ করেন র‌্যাব। বিআইডব্লউটিএ'র অফিসের সামনে থেকে লঞ্চে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে এই পানির বোতল বিতরণ করে র‌্যাব ৮ এর বরিশালের টিম। সকালে প্রায় ১০ হাজার পানি বিতরণ করেন তারা।

সাধারণ মানুষের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মাসেতুর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঢাকাকেন্দ্রিক একটি বাজার তৈরি হবে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে উৎপাদিত পন্যসামগ্রী সহজেই ঢাকা পৌছানো যাবে। আবার ঢাকা থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি গ্রামাঞ্চলে নিয়ে আসা যাবে। সেতুর ফলে সময়ও যেমন বাঁচবে তেমনি খরচও কমে আসবে। এতে করে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে পদ্মাপাড়ের এই অঞ্চলে। তাতে করে বাড়বে জীবন-যাত্রার মানও।