• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

মাদারীপুর দর্পন

পদ্মা সেতু: খামার শিল্পের বিকাশ ঘটে দক্ষিনাঞ্চলে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২২  

শিবচর প্রতিনিধি:

আসছে ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। সেতুকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মনে বইছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সেতু চালুর ফলে নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের যেমন ভোগান্তির অবসান হচ্ছে, তেমনি কোরবানির আগে সেতু চালু হলে ভোগান্তি কমবে গরুর খামারিদের। পদ্মাপাড়ের অঞ্চল বিশেষ করে মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ এবং খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা চলতি বছর কোরবানিতে রাজধানীসহ আশেপাশের পশুর হাটে নির্বিঘেœই কোরবানির পশু নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরই কোরবানিতে বিক্রির জন্য দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে গরুর খামারি, পাইকার এবং সাধারণ কৃষকেরা গরু নিয়ে রাজধানী ঢাকার মুখে ছুটেন। ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটসহ আশেপাশের এলাকার পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করে গবাদি পশু। সঠিক সময়ে হাটে গরু নিয়ে পৌছানোতে ইতোপূর্বে পদ্মা পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পরতে হতো তাদের। ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি পার হবার জন্য সিরিয়ালে ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়। প্রচন্ড গরমে প্রতি বছরই ফেরিঘাটে মারা যায় গরু। এছাড়া নৌপথে ট্রলারে করে গরু নিয়ে গিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনাও ঘটে থাকে। পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু নিতে আর ভোগান্তিতে পরতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান,‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই দক্ষিণাঞ্চল থেকে অসংখ্য পশুবাহী ট্রাক রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার হাটে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্যে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, পিরোজপুর এলাকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা যেতে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুট ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর থেকেও অসংখ্য ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে তাদের পশু নিয়ে আসে। এরা বাংলাবাজার ঘাট হয়ে রাজধানীতে পৌছায়। এসকল ব্যবসায়ী ছাড়াও কৃষক শ্রেণির অসংখ্য লোকজন কোরবানিতে নিজেদের দুই/একটি গরু নিয়ে একত্রে রাজধানীর হাটে যান। পদ্মা পার হতে ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থাকতে হয় ঘাট এলাকায়। তীব্র গরমে গরুর মৃত্যুসহ নানা ধরণের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেতু চালু হলে এই অসহনীয় দূর্ভোগ কেটে যাবে। নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু নিয়ে রাজধানীতে পৌছাতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তাই এখন শুধু দিন গুনছেন এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।

শিবচরের দত্তপাড়া এলাকার খামারি ফররুখ হাওলাদার জানান,‘পদ্মাসেতু চালু হলে আমাদের অঞ্চলে খামারর শিল্পের বিকাশ ঘটবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা রাজধানী থেকে পিছিয়ে ছিল। যার অবসান হতে যাচ্ছে পদ্মাসেতু চালুর মধ্য দিয়ে। তাছাড়া খামারিরা গরুর দুগ্ধ সরাসরি দিনের মধ্যেই রাজধানীতে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবে মেতে আছে পদ্মাপাড়সহ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ। সেতু নিয়ে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। শুধু যোগাযোগে দ্রুত গতিই নয়, পদ্মাসেতু বদলে দেবে সকল শ্রেনি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক চিত্র।