• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

মাত্র চার দিনেই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২২  

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের কালকিনিতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফুল ইসলাম (১৪) হত্যার মাত্র চার দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কালকিনি পুলিশ। সোমবার বিকেলে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেনের আদালতে মামলায় একমাত্র আসামি বোরহানউদ্দিন হাওলাদার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার রাতে বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহায়তায় বগুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বোরহানউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত শুক্রবার সকালে কালকিনি উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার একটি পুকুর থেকে মো. আরিফুর ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আরিফুর মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া এলাকার হারুণ সরদারের ছেলে। সে কালকিনির কৃষ্ণনগর এলাকার দারুল কোরআন হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসায় কওমী নাজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল। এ ঘটনার একদিন পরে নিহতের বাবা হারুণ সরদার বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসার বাবুচি বোরহানউদ্দিন হাওলাদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালকিনি থানার উপ-পরিদর্শক সৈয়দ হাসিব আহম্মেদ বলেন, ‘অভিযুক্ত আসামি আদালতের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতকে বলেছেন, তার মেয়ে ও মাদ্রাসার পিছনে আরও একটি মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কুপ্রস্তাবও দেয় আরিফুল। বিষয়টি তার মেয়ের মুখ থেকে শুনে মনক্ষুন্ন হন বোরহান। পরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আরিফুলকে মাদ্রাসা থেকে ডেকে নিয়ে বোরহান তার বাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে বসেন। এরপর আরিফুলের কাছে তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার বিষয় জিজ্ঞাসাবদ করে। বোরহানের প্রশ্নের কোন উত্তর আরিফুল দেয় না। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে আরিফুলকে বোরহান দুটি চরথাপ্পর দেন। পরে পানিতে টেনে নামিয়ে আরিফুলের ঘার ধরে পানিতে চুবিয়ে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা বোরহান।
সৈয়দ হাসিব আহম্মেদ আরও বলেন, ‘আরিফুল হত্যাকা-ে সরাসরি নিজে জড়িত থাকার কথা নিজে স্বীকার করে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দির মাধ্যমে বর্ণিত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক বলেন, ‘হত্যার পর পরেই আসামি এলাকা ছেড়ে বগুড়া চলে যায়। আমরা খবর পেয়ে একদিন পরেই বগুড়া অবস্থান করি। কৌশলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আসামি বোরহানউদ্দিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এ ছাড়াও আসামি পুলিশ ও আদালতের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।’

জানতে চাইলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামি বোরহানউদ্দিনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’