• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৮ রজব ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
সারদায় কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন সারদায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জন্য নিরাপদ মাতৃভূমি করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী আরসিসির ৭ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন ৪৬০ পুলিশ কর্মকর্তা বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী ২৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রোববার ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটে গেছে : প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে : বিদায়ি সুইস রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইইউ যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩  

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমনপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম এশীয় দেশটির মোল্লাতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়াতে সোমবার তারা এ নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে জানা গেছে। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো না, সেপ্টেম্বরে নীতি পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহ্শা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা দমনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সরকারি বাহিনীগুলো যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালায়, তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কের ফাটল আরো বৃদ্ধি করেছে।

মাহ্শা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখছে, তাকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান এ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীকে দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) ও বিক্ষোভ দমনের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইআরজিসি কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন ও এর পরিচালনা পর্ষদের পাঁচ সদস্যের ওপর; ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী নাসের রাশেদি এবং আইআরজিসির চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও তাদের কালো তালিকায় ঢুকেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বর্বরতা চালানোর বেশির ভাগ অর্থ আসা আইআরজিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্তম্ভকে লক্ষ্য করেই তারা এবারের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তালিকায় এর সঙ্গে জাতীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে দমনপীড়নে সমন্বয় করা ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও স্থান পেয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইআরজিসি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দমনপীড়ন চালিয়েই যাচ্ছে এবং এরা মানবাধিকারের বিস্তৃত লংঘনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের শিয়া মোল্লাতন্ত্রের সুরক্ষায় এই আইআরজিসি গঠিত হয়েছিল; বাহিনীটিতে এখন সেনা, নৌ ও বিমান ইউনিট মিলিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজারের মতো সদস্য আছে বলে মনে করা হয়। আইআরজিসি ধর্মীয় মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজেরও নেতৃত্বে আছে, যে বাহিনীটিকে প্রায়ই দমনপীড়নের কাজে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, আইআরজিসির বিনিয়োগ ও ইরানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন আইআরজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরই বানানো প্রতিষ্ঠান। এটি ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে’ এবং এর অর্থে আইআরজিসি বিদেশে নানা কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় বলেও অভিযোগ মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের।

যতদিন ইরানের শাসকরা সহিংসতা, নামকাওয়াস্তে বিচার, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডসহ নানা উপায়ে জনগণকে দমিয়ে রাখতে থাকবে ততদিন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখব, বিবৃতিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের আন্ডার সেক্রেটারি ব্রায়ান নেলসন। বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘বর্বর’ নিপীড়ন চালানো এবং অন্যান্য মানবাধিকার লংঘনের দায় দিয়ে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কিছু ইউনিটসহ ৩০-এর বেশি ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে এক বৈঠকে ইইউ-র ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ পদক্ষেপের ব্যাপারে সম্মত হন।

রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন যেখানে বেশি, সেই সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাসহ ইরান জুড়ে আইআরজিসির বিভিন্ন ইউনিট ও কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এবারের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা। কারা কারা এই নিষেধাজ্ঞায় আছে তার একটি তালিকাও ইইউর জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১৮ ব্যক্তি ও ১৯টি প্রতিষ্ঠান পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কর্মকর্তারা ইইউ-তে যেতে পারবেন না, ইইউ-তে থাকা তাদের সম্পদও জব্দ হতে পারে। সদস্যভুক্ত অনেক দেশ পুরো আইআরজিসিকে ইইউ-র ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তের জোর দাবি জানালেও জোটের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী বলে দোষী সাব্যস্ত করবে।  

যুক্তরাজ্যও সোমবার ইরানি জনগণের ওপর ‘নির্মম নিপীড়ন’ চালানোর অভিযোগে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্যে ইরানের সহকারী প্রসিকিউটর জেনারেল আহমাদ ফাজেলিয়ানের কোনো সম্পদ থেকে থাকলে, তা জব্দ হবে। অন্যায্য বিচার ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করা হয়, তার জন্য ফাজেলিয়ানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। সোমবার যুক্তরাজ্য যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের মধ্যে আরো আছে ইরানের স্থলবাহিনীগুলোর কমান্ডার কিউমারস হাইদারি, আইআরজিসির ডেপুটি কমান্ডার হোসেইন নেজাত। বাসিজ প্রতিরোধ বাহিনী এবং এর ডেপুটি কামন্ডার সালার আবনুশ, বাসিজ মিলিশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসিজ কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন এবং ইরানের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার কাসেম রেজাই-র নামও এই তালিকায় ঢুকেছে। এ নিয়ে মাহ্শা আমিনির মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর নতুন অর্ধশত নিষেধাজ্ঞা দিল, বলেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর।