• শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪৩০

  • || ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দেশে দুর্ভিক্ষ ঘটানো : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিডিপিতে বস্ত্র খাতের অবদান ১৩ শতাংশ : প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : রাষ্ট্রপতি নিউজউইকে নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার যাত্রী নিয়ে পর্যটন নগরীতে পৌঁছাল ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেয়র হানিফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইনের নীতিগত অনুমোদন

জ্বর শরীরের জন্য উপকারী, কারণ?

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

গায়ে জ্বর এলে কী করা বা না করা উচিত, সে বিষয়ে নানা প্রচলিত ধারণা চালু আছে। কিন্তু জ্বর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, বয়স ও শরীরের অবস্থার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞরা কিছু ক্ষেত্রে জ্বর কমানোর পরামর্শ দেন। জ্বরের উপকারী দিক ও ঝুঁকি নিয়ে একটি গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদন করেছে ডয়েচে ভেলে।

সেখানে বলা হয়েছে, জ্বর হলে অনেকে প্রচণ্ড কাহিল হয়ে পড়েন। কিন্তু জ্বর এলে দেখিয়ে দেয় যে, শরীর কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের লড়াই চালাচ্ছে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে সেটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ অনেক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া বেশি উত্তাপ সহ্য করতে পারে না। ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রায় সেগুলোর সবচেয়ে ভালো বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

জ্বরের কারণে চারপাশের পরিবেশ আরো উষ্ণ হয়ে পড়লে কিছু জীবাণুর প্রোটিন গুটি পাকিয়ে যায়। ফলে বংশ বৃদ্ধির পথে বাধা আসে বা জীবাণু মরে যায়। অর্থাৎ জ্বর শরীরের জন্য উপকারী।

রোগের প্যাথোজেন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে লিম্ফোসাইটের এক জরুরি ভূমিকা রয়েছে। সেই প্রতিরোধী কোষ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো হানাদার শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে৷ সংক্রমণের জায়গায় পৌঁছে গিয়ে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে৷ জ্বর সেই প্রক্রিয়ার গতি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ তখন হিটস্টক প্রোটিনের নিঃসরণ ঘটে৷ লিম্ফোসাইটের গতি আচমকা বাড়িয়ে দেয়৷ আরও দ্রুত গতিতে এবং আরো ভালোভাবে সেগুলো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারে।

জ্বর সাহায্য করে না ক্ষতি করে, এর কোনো সহজ উত্তর নেই। জ্বর কমানোর চেষ্টা করা উচিত কিনা, সেটিও কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।
সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. টিল মনে করেন, কিছু বয়সের মানুষের জন্য জ্বর বিশেষভাবে বিপজ্জনক। একদিকে খুব কম বয়সি রোগী, অর্থাৎ বয়স এক বছরেরও কম। অন্যদিকে ৭৫ বছরেরও বেশি বয়সি মানুষ। এটা হলো বয়স সংক্রান্ত একটি বিষয়। এ ছাড়া যাদের আগে কোনো কঠিন রোগ হয়েছে, তাদেরও ঝুঁকি বেশি। এমন মানুষের ক্ষেত্রে আমি উপসর্গের থেকে জ্বরকে বেশি গুরুত্ব দিই।

জ্বরে যত ঝুঁকি

কারণ আমাদের শরীরের বেশিরভাগ প্রক্রিয়া ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো ঘটে। শরীরের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেড়ে গেলে সেটা বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি স্বাস্থ্যবান মানুষের জ্বর ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে কঠিন পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ইন্টেনসিভ কেয়ারের ডা. প্রো. স্টেফান ক্লুগে বলেন, যেমন কঠিন ডিহাইড্রেশন, অত্যন্ত দ্রুত হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ কমার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে৷ এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই জ্বর কমাতে হয়।

তবে ঠিক কখন জ্বর কমানো উচিত, এর কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। যাবতীয় গবেষণার ফল একটি বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করে৷ শুধু জ্বর কমানোর মাধ্যমে রোগের সময় কমানো সম্ভব নয়।

চিকিৎসক হিসেবে ড. টোমাস গ্যুন্টার বলেন, জ্বর আসলে শরীরের অ্যালার্ম। শরীর বলে, আমার একটা সমস্যা হয়েছে, আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও। আমাকে এখন অন্য বিষয়ে মনোযাগ দিতে হবে। অর্থাৎ উৎসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তার জন্য শরীরের শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু জ্বর উপেক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে গেলে, শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে রোগ আরো অনেক কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জ্বর এলে যথেষ্ট পরিমাণ পান করা অত্যন্ত জরুরি৷ শরীরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়লেই বাড়তি এক লিটার করে পান করতে হবে। অর্থাৎ সাড়ে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা দিলে দিনে প্রায় পাঁচ লিটার পানি খেতে হবে। কেউ সেটা না পারলে তাকে জ্বর কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

ওষুধের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার জন্য তাপমাত্রা কমানো সম্ভব। বাইরে থেকেও শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করা যায়। যেমন কপালে জলপট্টি দিয়ে সেটা করা হয়। পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে কাপড় ভিজিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য পায়ে জড়িয়ে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।

এক রোগীর শরীরের তাপমাত্রা আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তিনি জ্বর কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছেন।