• বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৬ ১৪২৯

  • || ১৭ রজব ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

পাইকারি বাজারে কমছে চালের দাম

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২২  

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে চালের দর গড়ে ১০ শতাংশ কমেছে। সামনে আমন ফসল উঠলে দাম আরও কমে যাবে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। মাস দেড়েক আগে থেকে চালের দর অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তখন ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমার থেকে সরকার চাল আমদানি শুরু করে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম পড়তে শুরু করে।  

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকার লাখ লাখ টন আমদানি করছে। এই আমদানি মালগুলো ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম পোর্টে চলে এসেছে। তা খালাসও হচ্ছে। যারা ইম্পোর্ট লাইসেন্স পেয়েছে তারা যথেষ্ট পরিমাণ মাল বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করছে। আমনের ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে।”

গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সরকার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন চাল আমদানি করে। ব্যক্তি উদ্যোগে ভারত থেকে স্থলপথে আরও সাড়ে তিন লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। খুব শিগগির আড়াই থেকে তিন লাখ টন চাল ভারত থেকে আমদানি হবে। 

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে চালের কোনো ঘাটতি হবে না নতুন চাল না আসা পর্যন্ত। আশা করছি, সরকারের যে মাল পাইপ লাইনে রয়েছে সেগুলো অতিসত্তর এসে পৌঁছুবে। পাবলিকের কাছেও প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টন আমদানি করার বাকি আছে। সরকার যেন এই মালগুলো আনার ব্যবস্থা করে দেয়।”

গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের চাক্তাইয়ে চালের বৃহৎ পাইকারি বাজারে মোটা চালের সর্বনিম্ন দর ছিল ৪২ টাকা। ২ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। সরু চালও কেজিতে ৭-৮ টাকা কমে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দাম কমছে বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। 

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার ইম্পোর্ট করার কারণে এবং আমন ফসল আসায় দাম কমেছে। এই দাম আরও কমবে। মফস্বলে বাম্পার ফলন হওয়ার কারণেও চালের দর কমতির দিকে। মোটা কমেছে, চিকন চালের দাম কমেছে এবং এলসির মালের দামও কম।

দেশে চাল আমদানী বাড়াতে সরকার গত জুনে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে। এর আগে চালের আমদানি শুল্ক কমানো হয়।

এ বছর এক কোটি টনের বেশি চাল, গম ও ভুট্টা আমদানি করতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানি কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিকল্প হিসেবে চালের ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে ভোক্তারা।