• বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মাদারীপুর দর্পন

পুলিশ পরিচয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রতারণা!

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২১  

ইন্সপেক্টর পরিচয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে থানার মুন্সীর ফোন নম্বর জোগাড় করেন প্রথমে। মুন্সীকে ফোন দিয়ে চাওয়া হয় কনস্টেবল ও এএসআইদের তালিকা যারা বদলির জন্য আবেদন করেছেন।

এবার তালিকা ধরে ফোন দিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় বদলির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাবি করা হয় টাকা। আল আমিন নামের এক প্রতারক গত ৮ বছর ধরে পুলিশে চাকরি না করেও কেবল হুমকি দিয়ে সত্যিকারের পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। পঞ্চমবারের মত ধরা পড়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

 পুলিশের এএসআই ফরিদ এবং নায়েক ঊচ্চদেব প্রধান। দুজনই ঢাকায় কর্মরত। সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট শাখার পরিদর্শক পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাদেরকে ফোনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএনে বদলির হুমকি দেন। দাবি করেন টাকা। বদলি ঠেকাতে যার যার সাধ্যমত টাকাও দিয়ে দেন।
 
গোয়েন্দা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দেখতে পান আল আমিন নামে এক প্রতারক কখনো পুলিশের এআইজি, কখনো ইন্সপেক্টর পরিচয়ে কন্সটেবল ও এএসআইদের বদলির হুমকি দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
 
প্রতারক আল আমিন জানান, বছর দশেক আগে পুলিশের এক পরিদর্শকের সঙ্গে পরিচয় ছিল তার। নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতিসহ পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কাছ থেকেই জানতে পারেন। ওই পরিদর্শক মারা যাওয়ার পর তিনি শুরু করেন প্রতারণা।
 
পুলিশ বলছে, কন্ট্রোল রুমে বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন দিয়ে থানার মুন্সীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন আলি আমিন। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন কন্সটেবল আর এএসআইদের নম্বর। পরে তাদেরকে ফোনে বদলির হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করত সে।
 
একই অপরাধে ২০১৬ সালে প্রথম গ্রেপ্তার হন আল আমিন। জেল থেকে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন প্রতারণার পেশায়। ৫ম বারের মত গ্রেপ্তার হন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (গুলশান বিভাগ) মশিউর রহমান বলেন, পুলিশে যারা প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করেন, তাদের থাকা ও কর্মপরিবেশের সুখকর পরিবেশ নেই। সেখানে একজন লোক তার বিপি নাম্বারসহ কোথায় আবেদন করেছেন তার আবেদনটা কোথায় আছে এরকম তথ্যগুলো তার মাধ্যমে জানতে পারে তখন সে ধরেই নেয় কথা সত্য। পুলিশের গুরত্বপূর্ণ সেবা ৯৯৯ এ যে কেউ ফোন দিলে তাকে তথ্য দিয়ে থাকেন পুলিশ সদস্যরা যারা সেখানে কাজ করে থাকেন। এভাবে তারা মানুষের সেবা দিয়ে থাকেন। এই যে তথ্য দেওয়ার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে এ বদমাইশ এ প্রতারক এ প্রতারণার কাজগুলো করে গেছে। আমরা বোধ করি যে সমস্ত পুলিশের সদস্যরা আছেন তারা এরপর থেকে আরও সতর্ক হবেন।