• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

মাদারীপুর দর্পন

জুরাইনের ঘটনায় যার যতটুকু অপরাধ, তার বিচার হবে: আপিল বিভাগ

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২২  

সম্প্রতি জুরাইনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধী যেই হোক তার বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছে আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বলেছে, ওই ঘটনায় পুলিশ যদি অপরাধ করে তবে তার বিচার হবে, আইনজীবী অপরাধ করলেও তারও বিচার হবে।

আদালত রিটের পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বিচারিক আদালতে দুই আইনজীবীর জামিন আবেদন করুন। তারা জামিন না দিলে হাই কোর্টে জামিন আবেদন করুন। হাই কোর্টে জামিন না দিলে তারপর আমরা দেখব।”

পরে আদালত আগামী রোববারের (১৯ জুন) মধ্যে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি মুলতবি করে। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মুরাদ রেজা, রুহুল কুদ্দুস কাজল, অনিক আর হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী, শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

গত ৭ জুন রাজধানীর জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

জুরাইন রেলগেট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) বিপ্লব ভৌমিকের দাবি, ৭ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তায় যানজটের মধ্যে উল্টোপথে মোটর সাইকেলে করে আসছিলেন রনি ও নিশান। এ সময় সার্জেন্ট মো. আলী তাদের গতিরোধ করে কাগজপত্র চাইলে তার ওপর চড়াও হন মোটর সাইকেল আরোহীরা। এ সময় তারা আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে পুলিশের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। পরে নিশান তার ছোটভাই ইয়াসিনকে ফোন করে লোকজনসহ আসতে বলেন।

খবর পেয়ে ইয়াসিন কয়েকশ লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সার্জেন্ট মোহাম্মদ আলীকে মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করে। পাশাপাশি হামলাকারীরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে।

ঘটনাস্থলে আসা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উৎপল দত্ত অপু মারধরের শিকার হন। বর্তমানে সার্জেন্ট মো. আলী রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতাল চিকিৎসাধীন। আর এসআই উৎপল দত্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওই ঘটনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আলী হোসেন বাদী হয়ে সাড়ে ৪শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেখানে একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে অনেকেই বলছেন, হয়রানির প্রতিবাদে জুরাইনের স্থানীয়রা পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছেন।

পরেরদিন ৮ জুন এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আইনজীবীসহ ৫ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এ রিমান্ড আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শিক্ষানবিশ আইনজীবী সোহাবুল ইসলাম রনি ও তার শ্যালক আইনজীবী ইয়াসিন আরাফাত, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ, মো. নাহিদ এবং মো. রাসেল।

এরপর ১২ জুন রাজধানীর জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের মামলায় দুই আইনজীবীকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় মামলার নথি তলবের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত।

এদিকে মামলার একমাত্র নারী আসামি আইনজীবী ইয়াসিন জাহান ভুইয়া নিশানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে রিমান্ড আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।