• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৮ রজব ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
সারদায় কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন সারদায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জন্য নিরাপদ মাতৃভূমি করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী আরসিসির ৭ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন ৪৬০ পুলিশ কর্মকর্তা বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী ২৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রোববার ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটে গেছে : প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে : বিদায়ি সুইস রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী

তামাক কোম্পানির কার্যক্রম আমারা বিব্রত- পরিকল্পনামন্ত্রী

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০২২  

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) বোর্ড থেকে সচিবদের দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তামাক নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের নীতিতে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হয় সেজন্য এ পদক্ষেপ চান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেখানে সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) পরিষ্কারভাবে তামাক মুক্ত করার ঘোষণা করেছেন, সেখানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা মেনে নেওয়া যায় না। তামাক কোম্পানির এসব কার্যক্রম আমাকে বিব্রত করে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর: মিথ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইপিএইচআরসি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট মানে আমাদের সবার কমিটমেন্ট। ফলে যারা তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা এটা থেকে বেরিয়ে আসার সেফ এক্সিট পয়েন্ট খুঁজে বের করতে সহায়তা করুন। বিএটিবিতে সরকারের একেবারেই সামান্য শেয়ার আছে। আমি এটা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো।

তিনি বলেন, বিদেশে মানি ট্রান্সফারের বিষয়টি শুধু তামাক খাত নয়, অন্যান্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নবম পঞ্চবার্ষিকীতে কীভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ও একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর, মিথ ও বাস্তবতা : বিএটিবির ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফল উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, বছরে মাত্র ৬ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করে ফলাও করে প্রচার করে বিএটিবি। সরকার যখন তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন সিএসআর ব্যয় বৃদ্ধি করে বিএটিবি। এরইমধ্যে বিশ্বের ৬২টি দেশ সিএসআর নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কোম্পানি নামে-বেনামে কৌশলে তাদের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমি যেসব পলিসি নিয়ে কাজ করছি সেগুলো সরকারের জন্য খুবই দরকারি হলেও এসব খাত তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা ট্যাক্স নিয়ে কথা শুনতে চান না। আসলে রাষ্ট্র, সরকার যদি পরিবর্তন হতে না চায় তাহলে সুশীল সমাজ কোনোকিছু নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না। তামাকের বিরুদ্ধে আমাদের যে প্রচেষ্টা সেটা আসলে অসম যুদ্ধ। আমাদের সিদ্ধান্তে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাক মুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটা পূরণ করবো নাকি করবো না? তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, যখন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন তামাক কোম্পানি সিএসআর বাড়িয়ে দেয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্ডিংস। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে এনটিসিসি এরইমধ্যে একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের উচিত প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় সহায়তা করা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, তামাক কোম্পানির রাজস্ব দেওয়া নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি হয়। এ খাত থেকে টাকা আসলেও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তামাকের বিকল্প খাত থেকে রাজস্ব আয় করতে সরকারকে নতুন খাতের খোঁজ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, আমরা ট্যাক্স বাড়ানোর কথা বললে তামাক কোম্পানি নানা ধরনের তথ্য প্রচার করে। সিএসআর নিয়ে প্রচারণা বাড়ায়। তাদের ব্যবসা প্রতিবছর বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

তামাক বিরোধী নারী জোটের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আকতার বলেন, তামাক কোম্পানি রাজস্ব ও সিএসআর নিয়ে নয়-ছয় করে সেটা প্রমাণিত। তামাক কোম্পানিতে সচিবদের থাকা লজ্জার। জনগণের টাকায় যাদের বেতন হয় তারা কীভাবে তামাক কোম্পানিতে থাকতে পারেন! আমরা তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার ও সচিবদের নিয়োগ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রামস শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএটিবির বোর্ডে বিভিন্ন সচিবকে দেখে আমি বিব্রত বোধ করছি। কারণ সচিবরা বোর্ডে থেকে তামাক নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছেন। ফলে অতিদ্রুত সচিবদের হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। এতে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের নাসির উদ্দিন শেখ, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাসুদসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা। এসময় তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।