• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

মাদারীপুর দর্পন

জমে উঠেছে দেশের আমের বাজার

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২  

জমে উঠেছে দেশের আমের বাজার। পুরোদমে বাজারে আসছে গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, লক্ষণ ভোগ ও ল্যাংড়া আম। এসেছে বিখ্যাত ফজলি ও আম্রপালি আমও। খরা ও ঝড়ে চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার বাজারে আমের দাম ভালো। এতে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 

টকটকে লাল এ আমের নাম সূর্যডিম। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রজাতির এ আম এখন চাষ হচ্ছে দুর্গম পাহাড়ে।

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে উদ্যোক্তা হ্ল্যাশিমং চৌধুরী ৩৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন ক্রা এএ অ্যাগ্রো ফার্ম। এখানে চাষ হচ্ছে প্রায় ৬০ প্রজাতির আম।

হ্ল্যাশিমং চৌধুরী বলেন, “২০১৬ সালে এই আমের চারা নিয়ে আসি। ২০১৭ সালে এই চারাটা রোপণ করি। ২০১৯ সালে আম পেতে শুরু করি।

রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমের কদর সবার কাছে। দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও রফতানী হচ্ছে সুস্বাদু হাড়িভাঙ্গা আম।

রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শামিমুর রহমান বলেন, “শুধুমাত্র রংপুরে নয় এখানে উৎপাদিত হাড়িভাঙ্গা আম সারা বাংলাদেশে সরবরাহ হয়।”

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোপালভোগ, লক্ষণভোগ ও খিরসাপাত আম খুব জনপ্রিয়। কিছুদিন পর বাজারের নামবে রসালো আম। তবে গুটি আম এরই মধ্যে বাজারে উঠেছে। কানসাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এখানে ষাট-সত্তুর বছর বয়সের গাছে আম কম কিন্তু ছোট এবং মাঝারি গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আম ধরেছে। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।”

সময়ের সাথে বাড়ছে আমের চাষ। ইতিমধ্যে বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি কারখানা থেকে আমের জুস ও প্রক্রিয়াজাত নানা খাদ্যপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আরও প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাও আছে। 

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মৌসুমে আম যা উৎপাদিত হয় তার খুবই কম আমরা খাই। বাকিটা কিভাবে প্রক্রিয়া করতে পারি সেটার ব্যবস্থা করতে হবে। আমের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে অনেক দূর আগাতে পারিনি। এজন্য প্রযুক্তির বিস্তার দরকার।”

সারাবছর আমের স্বাদ পেতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্প কারখানা স্থাপনের তাগিদ কৃষি বিশেষজ্ঞদের।

অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ইন্ড্রাস্টি করতে পারি, তাতে সবাই ক্যাপিটাল শেয়ার করতে পারি।”

আমভিত্তিক শিল্পকারখানা করা হলে কয়েক গুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে মত কৃষিবিদদের।