• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, ২৫ বছর পরে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরে স্ত্রীকে স্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে ২৫ বছর পর স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুর ১টায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম গোবিন্দ চন্দ্র পাল (৪৫)। তিনি শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের রামরায়েরকান্দি এলাকার গোপাল চন্দ্র পালের ছেলে।

আদালত ও পুলিশে সূত্র জানায়, প্রায় ৩৩ বছর আগে রামরায়েরকান্দি এলাকার গোবিন্দ চন্দ্র পাল পাশ্ববর্তী এলাকার মিলানি রানি পালকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে গোবিন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মিলানির কলহ লেগে ছিল। এ কারণে ১৯৯৬ সালে ৫ ডিমেম্বর মধ্যরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মিলানিকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার স্বামী গোবিন্দ। এ ঘটনার চারদিন পর ৯ ডিসেম্বর শিবচর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাসউদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ১৯৯৭ সালে ২ ফেব্রুয়ারি শিবচর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক নাজমুল হক ভুইয়া মিলানির স্বামী গোবিন্দ চন্দ্র পালকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর দীর্ঘ যুক্ততর্ক শেষে ও ৯ জনের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মিলানির স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় আসামিকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গোবিন্দ চন্দ্র পাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, 'স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার দায়ে তার স্বামী গোবিন্দকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলার হওয়ার সূচনা থেকেই আসামি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ কখনোই আসামিকে আদালতে হাজির করতে পারেনি। আমাদের ধারণা, সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি দেশে নেই। তাকে খুজে বের করে আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে আসামির সাজা কার্যকর হবে।'

পিপি বলেন, 'আসামি যেহেতু শুরু থেকে পলাতক এবং নিহত স্ত্রী মিলানির স্বজনরাও আদালতে সে ভাবে এগিয়ে না আসায় এই মামলা নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ ২৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন লেগেছে। এ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মিলানির কোন স্বজনও ছিলেন না।'