• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৬ মুহররম ১৪৪৪

মাদারীপুর দর্পন

ডিজিটাল হুইল চেয়ার উপহার পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রতিবন্ধী রিয়াদ

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২২  

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ রিয়াদ হাওলাদার জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দু-পাই অচল। হাতে ভর করে চলতে হয়। স্কুলে যাওয়া আসায় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো রিয়াদকে। দু বছর আগে মা মারা যাওয়ার পরে সমস্যা আরও তীব্র হতে থাকে। কখনো বাবা আবার কখনো দাদার সাহায্য নিয়ে রিয়াদ যেত স্কুলে। কখনো নিজেই বুকে ভর দিয়ে স্কুলে পৌঁছেছে।

চলাফেরায় রিয়াদের সমস্যা এবার ঘুঁচেছে। মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ডিজিটাল হুইল চেয়ার রিয়াদকে উপহার দেওয়া হয়েছে। এখন করো সাহায্য ছাড়াই রিমোট ব্যবহার করে চলাফেরা করতে পারবে রিয়াদ।

সোমবার বেলা ১১টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার আচমত আলী খান মিলনায়তনে রিয়াদের হাতে ডিজিটাল হুইল চেয়ারটি তুলে দেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খান, জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন ও সদর উপজেলার পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন।

এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ডিজিটাল এই হুইল চেয়ারটি উপহার পেয়ে তীব্র খুশি রিয়াদ। হুইল চেয়ারে বসে রিয়াদ বলে উঠলো, ‘আমি আজ অনেক খুশি। ভাল একটা হুইল চেয়ার না থাকায় এতদিন আমার অনেক কষ্ট হইছে। স্কুলে যাইতে এহন আমার আর কষ্ট হইবে না। আমি একাই স্কুলে দ্রুত আসা যাওয়া করতে পারবো। এর থেকে আনন্দের আর কিছু নাই। এ সময় অতিথি সবার কাছে দোয়া চান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানালেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ি এলাকার রেজাউল হাওলাদারের ছেলে রিয়াদ হাওলাদার (১৫)। রিয়াদ মস্তফাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রিয়াদের বাবা রেজাউল হাওলাদার মস্তফাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিক একজন শ্রমিক।

উপহারটি নিতে রিয়াদের সঙ্গে আসেন তাঁর দাদা সামছুর হক হাওলাদার ও মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান। রিয়াদের দাদা সামছুর হক আক্ষেপ করে বলেন, ‘রিয়াদ পড়ালেখায় ভাল। তাই ওর বাবা অনেক কষ্ট করে ওরে পড়ালেখা করায়। রিয়াদ ওর প্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রকৌশলী হতে চায়। জানি না ছেলেডার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা। তবে ওর মনোবল আছে। তাই পড়ালেখা ছাড়ে নাই। চেষ্টা করে কিছু করতে।’

মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান বলেন, ‘শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রিয়াদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছিল। ওর বাবাও প্রতিবন্ধী। ওর বাবার ক্ষমতা ছিল না এই ডিজিটাল হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার। বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্রই সমাজসেবা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তারাই সবকিছু দ্রুত ব্যবস্থা করে দেন।’

এ সম্পর্কে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খান বলেন, এই ডিজিটাল হুইল চেয়ারটি দাম এক লাখ বিশ হাজার টাকা। রিয়াদ পড়ালেখা করে, ওর স্কুলে দ্রুত আসা যাওয়ায় আর যেন কোন অসুবিধা না থাকে তার জন্যই এই বিশেষ ধরনের হুইল চেয়ারটি উপহার দেওয়া হয়েছে। এটি এক চার্জে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলবে। হাতের রিমোটের মাধ্যমে দিক নির্ণয়, হর্ন ও ব্রেক করতে পারবে।’

রিয়াদ ছাড়াও একই সময় সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ৫৯টি সাধারণ হুইল চেয়ার ও ১১০টি সেলাই মেশিন অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করা হয়।