• মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৫ ১৪২৮

  • || ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মাদারীপুর দর্পন

মাদারীপুরে শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২১  

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আদুরী আক্তার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তিন জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাজৈর পশ্চিম স্বরমঙ্গলের রফিক হাওলাদারের ছেলে রাজিব হাওলাদার (৪১), কোদালিয়া বাজিতপুরের মুহিত গাছীর ছেলে রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী (৩২) ও  পিরোজপুর জেলার ভৈরমপুরের রফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৩১)। বিচারক মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানাও ধার্য করেছেন। এ ছাড়া এ মামলায় বাগেরহাট জেলার সেলিম হাওলাদারের (৪১) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া জামে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় টুকু সরদারের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আদুরী আক্তার। আদুরীর বাবা টুকু সরদার প্রথমে মেয়ের সন্ধান চেয়ে রাজৈর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামকে আটক করে। পরে তিনি পুলিশের কাছে আদুরীকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মসজিদের পাশ থেকে আদুরী আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত শিশুর বাবা টুকু সরদার। পরবর্তীতে মামলার চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অদ্যাবধি পলাতক। পরে রাজৈর থানায় হওয়া মামলাটি জেলার সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে সবশেষ ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি চার জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির পরিদর্শক মো. সাঈদ হাসান। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আদালতে অভিযুক্ত তিন আসামির অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। অপর আরেক আসামির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন আদালত।

নিহত আদুরীর বাবা টুকু সরদার এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়ে হত্যার রায়ে আমি খুশি হয়েছি। আমার সরকারের কাছে একটাই দাবি, এই ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়। আর যেন কোন বাবাকে তার মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে না হয়। 

মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, আদুরী নামে এক শিশুকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে লাশ মাটিতে পুতে রাখা হয়। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। এ মামলায় অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম সরাসরি অর্থের জন্য শিশুটিকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ইমাম ছাড়াও আরও দুজন জড়িত। আদালত বাকি দুজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকেও মৃত্যুদণ্ড ধার্য করেছেন। মামলায় এক জনকে অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

আদালত পুলিশে পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র দাশ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার সময় এক আসামি রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী আদালতে উপস্থিত ছিল। বাকি দুজন পলাতক। আদালত সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইসু হয়ে গেছে।'