• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন

মাদারীপুরে চলছে ৭ দিনের লকডাউন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১  

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে ভোর থেকে শুরু হয়েছে ৭ দিনের লকডাউন।সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২২ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। জেলায় করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলায় ভারতের ভ্যারিয়েন্ট (ডেলটা করোনা) পাওয়ার কারণে এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার রাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এর পরপরই জেলার তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও লকডাউন বাস্তবায়নে সচেতনামূলক মাইকিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে দ্বারীয়ে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থা নিতে দেখা গেছে।তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করাসহ যাতে বিনা প্রয়োজনে ঘড় থেকে রাস্তায় বের না হন সেই ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন।এসময় সড়কে জেলার পুলিশ সুপার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে।

মাদারীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার সাথেই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় সীমান্ত এলাকা। কোটালীপাড়ার সাথে মাদারীপুরের এই তিন উপজেলার মানুষের অবাধ যাতায়াত। কোটালীপাড়ায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ডেলটা করোনা) পাওয়া গেছে। এটি সীমান্তবর্তী এলাকা মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সবচেয়ে বেশি কাছে। ফলে মাদারীপুরে রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ৪৮টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় এর হার ৩৭.৫ শতাংশ। ফলে জেলায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২শ’ ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ২ হাজার ৫শ’ ৩৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২শ’ ৫৯জন সুস্থ্য হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২শ’ ৪৫ জন। এরমধ্যে আইসোলেশনে একজন ও হোম আইসোলেশনে ২শ’ ৪৪ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।