• শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৯ ১৪২৭

  • || ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
১৫০

সুন্দরবনে শুঁটকি আহরণ মৌসুম শুরু, জেলেরা ছুটছেন দুবলারচর

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২০  

মোংলা ও শরণখোলা উপজেলার লোকালয় থেকে ৭৫ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগর উপকূলে পাঁচটি চর নিয়ে সুন্দরবনের সর্ববৃহৎ শুঁটকি পল্লিকেন্দ্র দুবলার অবস্থান। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর, আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া, শেলারচর ও মেহেরআলীর চর নিয়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এই পল্লিতে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে সামুদ্রিক মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরির কাজ। ১৫ থেকে ২০ হাজার জেলে ও বহরদাররা সুন্দরবন বিভাগের কাছ থেকে নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লিতে অস্থায়ী ঘর করে সামুদ্রিক সাদা মাছসহ চিংড়ি ও কাঁকড়া আহরণ করে। সুন্দরবনের দুবলারচরের শুঁটকি পল্লির জেলেরা কমবেশি ৩০ প্রকার জাল ব্যবহার করে মাছ রোদে শুকিয়ে বিদেশে রফতানির জন্য উপযোগী করে তোলে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে সুন্দরবনের দুবলারচরে শুঁটকির জন্য মাছ আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণ মৌসুম।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাও বুধবার রাত ১২টার পর শেষ হচ্ছে। জেলেরা রাত ১২টার পর সাগরে মাছ ধরতে রওনা হবেন। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, এ বছর শীতে করোনা প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা মাথায় রেখেই স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরে শুঁটকি পল্লি করার অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ।

১৫ জন বহরদারের (জেলে মহাজন) আওতায় ১৫ থেকে ২০ হাজার জেলে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বাগেরহাটের মোংলা থেকে মাছ ধরার জন্য নৌকা-জাল নিয়ে চরে অস্থায়ী বসত গড়ে তোলার সরঞ্জাম নিয়ে যাত্রা করেছেন দুবলা শুঁটকি পল্লির উদ্দেশে। যাত্রার আগে তারা সেরে নিয়েছেন ধর্ম অনুযায়ী নৌকায় মিলাদ ও পূজার আনুষ্ঠানিকতাও। এসব বহরদার ও জেলে সুন্দরবনের দুবলারচরে শুঁটকি পল্লিতে যেতে জড়ো হয়েছেন বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীর চিলা খালে। এর আগে তারা সুন্দরবন বিভাগের কাছ থেকে সরকারি অনুমতি (পাস পারমিট) নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই গ্রামের জেলে রহমত আলী (৫০) বলেন, আমি এবার ৩০ জন জেলে নিয়ে সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লিতে যাচ্ছি। সেখানে সমস্যা অনেক। যেমন সেখানে কোনও হাসপাতাল নেই, আমাদের কেউ অসুস্থ হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। কেউ অসুস্থ হওয়ার পর শরণখোলা ও মোংলা আনতে আনতে পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আমরা চাই সেখানে একটি হাসপাতাল করা হোক। আসছে শীত মৌসুমের পুরোটাই জেলেদের থাকতে হবে সাগর ও সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লিতে। তাই সেখানে করোনার প্রকোপ বাড়লে আমাদের পড়তে হবে চরম বিপদে। তাই চরে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি আমার মতো সব জেলের।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দুবলারচরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লির ১৫ থেকে ২০ হাজার জেলে ও বহরদাররা মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির কাজ করতে জড়ো হবে। যেহেতু অনেক লোকের সমাগম ঘটবে তাই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সেখানে ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তা না হলে ওখানে যেকোনও একজন কোনোভাবে সংক্রমিত হলে তা ছড়িয়ে যাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মাঝে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, গত ২০১৮-১৯ শুঁটকি আহরণ মৌসুমে জেলেদের আহরিত ৪১ হাজার ৫৪ কুইন্টাল শুঁটকি থেকে বন বিভাগ ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও ২০১৯-২০ মৌসুমে ৪৪ হাজার ৭১৩ কুইন্টাল শুঁটকি থেকে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আর এবার শুঁটকি খাত থেকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আদায় কমবেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ বেশ কিছু শর্তে জেলে-বহরদারদেরকে শুঁটকি পল্লিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর করোনা বিধি নিষেধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুঁটকি আহরণ মৌসুমে দুবলায় একটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র থাকবে।

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর