• শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪২৬

  • || ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
৪৮

সুনীল অর্থনৈতিক পরিচালনায় কোস্ট গার্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে প্রভূত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিকায়নে নানাবিধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও অবিচল আস্থার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রচারীদের সুরক্ষা প্রদান করে ‘সুনীল অর্থনৈতিক কার্যক্রম’ পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস ২০২০ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে বনদস্যু-চোরাকারবারী আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশ/বহির্গমন রোধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব বিশেষ অভিযান পরিচালনার ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোস্ট গার্ড পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে এবং আমাদের সরকারের ‘রূপকল্প-২০৪১’, ও ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা – ২১০০’ বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর কোস্ট গার্ডের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, জাহাজ/বোট সংযোজন-সহ এর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ২০০৯ থেকে পরপর তিনদফা সরকার গঠনের মাধ্যমে আমাদের সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে প্রভূত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিকায়নে নানাবিধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, “গত এগারো বছরে আমরা কোস্ট গার্ডের জন্য প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও আবাসিক ভবন নির্মাণ, পেট্রোল ভেসেল ও বিভিন্ন আকারের দ্রুতগতি-সম্পন্ন জলযান সংগ্রহ; নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে একটি স¦নির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে সমর্থ হয়েছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকেই সমুদ্রে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উপকূলীয় ও সমুদ্র প্রতিরক্ষার দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছে।
সময়ের পরিক্রমায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির ফলে একটি বাহিনীর পক্ষে নিজস্ব দায়িত্বের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা বিষয়ক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে বিবেচনায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলে থাকাকালীন মহান জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করে। উক্ত প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী একটি বিকল্প বাহিনী হিসেবে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ‘কোস্ট গার্ড দিবস – ২০২০’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

 

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর