• বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৮ ১৪২৬

  • || ০৭ শা'বান ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
২৯৩

র‌্যাবের জালে ধরা পড়লো এসকর্ট-ড্রাগ কুইন শামিমাসহ ৪ জন

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

 


অনৈতিক উপায়ে অবৈধ অর্থ অর্জন ও পাচারে নিয়োজিত রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রুপ- এমন কিছু তথ্য আসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১ এর গোয়েন্দা উইং এর কাছে। শুরু হয় অনুসন্ধান। তথ্য পাওয়া যায়, ঢাকা ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি সক্রিয় গ্রুপের। এই গ্রুপগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপনে দেশের বাইরে পাচার করে আসছে বলে জানা যায়। অধিকতর গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে র‌্যাব ১ রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী জেলা নরসিংদীতে সক্রিয় একটি গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তির নাম উঠে আসে।

জানা যায়, তারা নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজিসহ নারীসংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায় যে, এই গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তি বিপুলপরিমাণ অবৈধ অর্থসহ দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছে। 

র‌্যাব ১ এর বিশেষ আভিযানিক দল শুরু করে অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় র‌্যাব ১ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ (২৮), মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাবিক্ষর খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)-কে আটক করে। এ সময় তাদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ৭টি, বাংলাদেশি নগদ ২,১২,২৭০/- টাকা, বাংলাদেশি জাল নোট ২৫,৬০০/-, ভারতীয় রুপি ৩১০, শ্রীলঙ্কান মুদ্রা ৪২০, ইউএস ডলার ১১,০৯১ এবং ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অবৈধভাবে অর্থ পাচার ও জাল টাকা প্রস্তুতকারী এই গ্রুপের প্রধান শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ ও স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন তার সহযোগী। এখানে উল্লেখ্য, ২০১২ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় ভাড়া বাসার সামনে তৎকালীন নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিটি বিদ্ধ হয় তার স্ত্রী শামিমার পেটে। 

সেই শামিমা আর আজকে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া শামিমা একই নারী বলে বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ধৃত অপর আসামি সাবিক্ষর খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা 'অপরাধী স্বামী-স্ত্রী' জুটির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারীসংক্রান্ত অনৈতিক কারবারের সাথে জড়িত। এ ছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির করে আসছে। 

এ বিষয় নিয়ে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং এ ব্রিফ করেন র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল। তিনি জানান, শামিমা প্রধানত একটি এসকর্ট টিম এর নেত্রী। সে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট বুক করে এবং আরো ৩-৪টি ক্লাসিফায়েড স্যুইট বুকিং করে এসকর্ট সার্ভিস চালাত। এ মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত সে শুধু রেসিডেন্সিয়াল বিল দেয় ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়াও সে প্রতিদিন ওই হোটেলটির বার বুক করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মদের বিল গুনত। শামিমার কাছে ওই হোটেলটির আরো ১২ দিনের বিল পাওনা রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানায়, সে একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় অংশীদারত্বে তার একটি 'কার একচেঞ্জ' নামক গাড়ির শোরুম আছে এবং নরসিংদী জেলায় তার 'কেএমসি কার ওয়াস অ্যান্ড অটো সলিউশন' নামক একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। তিনি সমাজসেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সহযোগিতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে বলেও জানায়। বছরের অধিকাংশ সময় সে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদারদের অনৈতিক কাজে নারী সবরবরাহ করে। নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এ ছাড়াও তার স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নংসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুলপরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়। 

মফিজুর রহমান জানায়, সে-ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে তার স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা আছে বলে জানা যায়। এ ছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে বলে জানা যায়। সে তার স্ত্রীর মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কুখ্যাতি রয়েছে। নরসিংদীতে 'কেএমসি কার ওয়াস অ্যান্ড অটো সলিউশন' নামক প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি সার্ভিসিং এর আড়ালে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক কারবারের কাজে ব্যবহার করা হয়। নরসিংদী এলাকায় তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে থাকেন। জেলা শহরের বাইরে গেলে তার ক্যাডার বহিনী তাকে বিশাল গাড়িবহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। সে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুলপরিমাণ নগদ অর্থের পাশাপশি নংসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট আছে বলে জানা যায়।

আসামি সাবিক্ষর খন্দকারকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ধৃত আসামি শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ এর ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার দূরসম্পর্কের ভাই। সে সর্বদা শামিমার সাথে অবস্থান করে। সে শামিমার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব রাখে ও দেখাভাল করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করে থাকে বলে জানায়।

শেখ তায়্যিবা জানায়, সে মফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী। সে মফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব রাখে ও দেখাভাল করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ কারবার এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে তাকে সহযোগিতা করে থাকে বলে জানায়।  

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর