• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন

মুজিবনগর সরকার: প্রেরণার বাতিঘর

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১  

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও সূদৃরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠন।

এই সরকার ছিলো সম্পূর্ণ সাংবিধানিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও বৈধ। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। প্রবাসী, বিপ্লবী, অস্থায়ী বা মুজিবনগর সরকার যে নামেই ডাকা হোক না কেন; মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার নামে সমধিক পরিচিত। 

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর ছিলো মুজিবনগর সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের জনগণের প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী রাষ্ট্র ভারতের সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক রক্ষায় এই সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। 

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের এগিয়ে চলায় নিরন্তর প্রেরণা যোগায় মুজিবনগর সরকার। 

ইংরেজ কবি ও প্রাবন্ধিক টিএস এলিয়ট (১৮৮৮-১৯৬৫)বলেছেন—‘প্রত্যেক জাতিকে মুক্তির দীর্ঘ প্রহর গুনতে হয়, একটি জাতির শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা পুরনো প্রথা ভেঙে অবিস্মরণীয় দীপ্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে এবং সে নেতৃত্ব একটা জাতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করে।’

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সেই মহান নেতা, যার দূরদর্শী নেতৃত্ব, দীর্ঘ সংগ্রাম ও নজিরবিহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার ফসল মুজিবনগর সরকার। সুতরাং এটা বলাই যায যে, মুজিবনগর সরকার  হঠাৎ আবির্ভূত কোনও ম্যাজিক নয়। 

বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্ব, বাঙালির প্রতি অতল ভালোবাসা, অসীম সাহসিকতা, বিরল ত্যাগ আর সৃজনশীলতা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে আপাদমস্তক বিকশিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় গোঁড়ামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মহাজাগরণ ঘটিয়েছিলেন। 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাঙালি একাট্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার আয়ুষ্কালের ৫৫ বছরের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করেছেন বাঙ্গালি জাতির মুক্তি সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতিসত্তা, স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। 

বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনীতির মূলমন্ত্রই ছিল আদর্শের জন্য সংগ্রাম, আদর্শের জন্য আত্নত্যাগ। বস্তুত জেল-জুলুম ও নিপীড়ন বঙ্গবন্ধুর জীবনে এক নিয়মিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছিল। জনগণের জন্য, দেশের জন্য তিনি তার ৫৫ বছরের জীবনে চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন, যা তার মোট জীবনকালের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে, প্রতিটি ঘটনার মুখ্যচরিত্র বঙ্গবন্ধু। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের সাধারণ নির্বাচন; ১৯৬২ সালে শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন; ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন; ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলা; ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান; ১৯৭০ সালের নির্বাচন; ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ; ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা; ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ—পুরোটাই বঙ্গবন্ধুময়। 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের অধিকার অর্জন করে, কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা পূর্ব পাকিস্তানের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। 

১৯৭১ সালের ১ মার্চ কোন কারণ ছাড়াই ৩ তারিখের নির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” 

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের গণহত্যাযজ্ঞ। আর পাকিস্তানি সেনারা সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন- “This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের বিধান অনুসারে (১৯৩৩ সনের মন্টিভিডিও কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১) একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকটি আবশ্যকীয় উপাদান প্রয়োজন। 

উপাদানগুলো হলো -(ক) একটি সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী; (খ) একটি সুনির্দিষ্ট সীমানা; (গ) একটি কার্যকর সরকার; এবং (ঘ) সার্বভৌমত্ব। 

২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও রাষ্ট্রগঠনের আবশ্যিক উপাদান একটি আনুষ্ঠানিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা আইন ও বাস্তবতার নিরিখে ব্যাপকভাবে অনুভূত হতে থাকে। 

মুজিবনগর সরকার গঠিত না হলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অথবা বিদ্রোহী হয়ে পড়তাম। কাতাঙ্গা যখন ১৯৬০ সালে কঙ্গোর বিরুদ্ধে অথবা বায়াফ্রা যখন ১৯৬৭ সালে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তখন তাদের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপপ্রয়াসরূপে চিহ্নিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব তাদের রাষ্ট্ররূপে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। 

অধ্যাপক গার্নারের মতে, ‘রাষ্ট যদি হয় জীবদেহ তবে সরকর হলো এর মস্তিষ্কস্বরূপ’। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ ছিল একটা বাসত্মবসম্মত ও সময় উপযোগী সাংবিধানিক পদক্ষেপ।
 
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হল। বাংলাদেশের মাটিতেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে তা বিশ্ববাসীকে দেখানোর জন্য শপথ গ্রহণ প্রয়োজন। শপথ গ্রহণের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননকে।

এলাকাটির তিন দিকেই ভারত। তাই পাকিস্তানি বিমান হামলার শঙ্কা ছিল না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে আরেকটি ঐতিহাসিক দিন। 

প্রবাসী সরকার গঠনের পর বিদেশের মাটিতে নয়, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যাতে নতুন সরকারের শপথ পাঠ করানো হয় তা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে ছিল। 

সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সতর্ক দৃষ্টি ছিল পুরো অঞ্চল ঘিরে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 

শপথগ্রহণ শেষে সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের সদর দফতর তথা অস্থায়ী কার্যালয় বৈদ্যনাথতলাকে বঙ্গবন্ধুর নাম অনুসারে মুজিবনগর নামকরণ করেন। সেই থেকে এ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। 

মুজিবনগর সরকারের সদর দফতর মুজিবনগরে স্থাপিত হলেও পরে কলকাতা স্থানান্তরিত হয়। মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিলো কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, যা প্রবাসী সরকার গঠনের ইতিহাসে বিরল। এমনকি এ সরকারের প্রধান সেনাপতিও ছিলেন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

মুজিবনগর সরকারের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ও স্বশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।  সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে কারান্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 

তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। খন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। কর্নেল এম এ জি ওসমানী কে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়। সরকারের কর্মকাণ্ড- পরিচালিত হয়েছিলো বারোটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। 

সরকারের কর্মকাণ্ড তিন ধরনের বিভাজন ছিলো: বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক বিষয়াবলি (প্রধান বিষয়) এবং স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা। উক্ত অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুল মান্নান। 

মুজিবনগর সরকারের অন্যতম সফলতা হলো—বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার মুক্তির বাসনাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থন লাভ এবং মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা অর্জন। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে এবং বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে বিশ্বজনমতকে বাংলাদেশের সপক্ষে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছিল। 

সামরিক বিজয়ের আগেই কূটনৈতিক সাফল্যের সূচক হিসেবে ভুটান ও ভারতের স্বীকৃতি অর্জন করা। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন, মুক্তিযোদ্ধা এবং  সাধারণ  জনগণের মনোবল ঠিক রেখে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করাও এ সরকারের অন্যতম সফলতা। 

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার যেমন সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী সংগঠিত করেছিল, একইভাবে সরকার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় ও বিভিন্ন বিভাগ গঠন করে বেসামরিক প্রশাসনকে সংগঠিত করে দেশের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিজস্ব আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, প্রায় এক কোটির মতো শরণার্থীর জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা অর্জন, এসব দিক বিবেচনায় মুজিবনগর সরকার ছিল সত্যিই অতুলনীয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (৫০বছর) উদযাপন চলমান আছে। মুজিবনগর সরকারও আজ ৫০-এ পা দিল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অনন্য। 

তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মুজিবনগর সরকারের নাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর অন্যতম স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা বিনির্মাণ। 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দায়িত্ব এখন তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের বিস্ময়, বিস্ময়ের বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১ দিয়েছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন। যার মধ্য দিয়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি এবং ভিশন ২০৪১ এর মাধ্যমে আমরা আধুনিক এবং উন্নত দেশে পরিণত হব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে মুজিবনগর সরকার।