• বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
১১০২

আরব আমিরাত সফর

বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি চক্র

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২০  

 


‘আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক- ২০২০’ ও ‘জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি প্রাইজ’ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছরে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। এ সফরে দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে বড় অগ্রগতি হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরব আমিরাত সফর নিয়ে যখন দেশ ও বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা আশায় বুক বাঁধছেন, ঠিক তখনই সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কিছু চক্র এই সফরকে বিতর্কিত করতে নানা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে গুজব ছড়াতে তৎপর হয়েছে।

আরব আমিরাত সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী জনৈক শামসুল আলম নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে বিভিন্ন বানোয়াট ও উদ্ভট তথ্য ছড়াতে সক্রিয় হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওই ব্যক্তি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জামাতা মাসরুর হোসাইন মিতু’র নামে অবৈধ অর্থপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের বানোয়াট এবং মনগড়া তথ্য প্রচার করছেন।

বহির্বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণ করতে বানিয়ে বানিয়ে অর্থ পাচার, আটক, পাসপোর্ট জব্দ করার মতো মুখরোচক পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করছেন। আর এসব গুজবকে ঢালাওভাবে প্রচার করার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিছু বেনামি নিউজ পোর্টালকে।

তবে মাসরুর হোসাইন মিতুর বিরুদ্ধে প্রচার করা ছবিটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে সাধারণ মানুষ কমেন্ট করা শুরু করলে শামসুল আলম ও তার সহযোগীরা কৌশলে শেয়ার করা ছবিটি পাল্টে দেয়। পাশাপাশি মাসরুর হোসাইন মিতুর বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যটিকে ফেক হিসেবে চিহ্নিত করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেই তথ্যটিকে ফেসবুক থেকে মুছে ফেলে।

জানা গেছে, বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে শ্রম বাজার উন্মুক্তকরণ, প্রবাসী বাঙালিদের সুবিধা বাড়ানো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন। যার ফলে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফর নিয়ে দেশ ও প্রবাসের বাঙালিদের আকাঙ্খাকে বিনষ্ট করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মান ক্ষুন্ন করতে সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থপাচার নিয়ে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়াতে নেমেছে কিছু চক্র।

শামসুল আলমের মতো কিছু প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সদস্যরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে এসব সংবাদ পরিবেশন করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মূলত বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কিছু দেশবিরোধী চক্র প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে বড় অগ্রগতি হতে পারে। গত নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ে ‘দুবাই এয়ার শো-২০১৯’-এ যোগ দেন। ওই সফরে দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম, আবুধাবির যুবরাজ ও আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মুহাম্মদ বিন জায়ের আল নাহিয়ান এবং ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সুপ্রিম চেয়ারম্যান শেখ ফাতিমা বিনতে মোবারকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন।

গত নভেম্বর মাসে দুবাই এয়ার শোর ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে আবুধাবির যুবরাজ ও আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মুহাম্মদ বিন জায়ের আল নাহিয়ান বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাঁর দেশের শ্রমবাজার শিগগিরই খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যুবরাজ নাহিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ওই সময় বলেছিলেন, ‘আপনার পরবর্তী আমিরাত সফরকালে আপনাকে এই প্রশ্নটি আর করতে হবে না।’

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর