• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
৩২৬

পদ্মাসেতু দেখে বিস্মিত ও আনন্দিত লঞ্চ-ফেরির যাত্রীরা

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২০  

শিবচর প্রতিনিধিঃ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু দীর্ঘায়িত হচ্ছে। প্রমত্ত পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের যাত্রীদের কাছে মাথা তুলে দাঁড়ানো পদ্মাসেতু এক স্বপ্ন-বাস্তবায়নের আনন্দ। বর্তমানে এ নৌরুট দিয়ে লঞ্চ, ফেরি বা স্পিডবোট পার হওয়া যাত্রীরা পদ্মাসেতুর রূপ দেখে পুলকিত, বিস্মিত ও গর্বিত। নৌরুটে লঞ্চে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সাথে আলাপ করলে এভাবেই ব্যক্ত করেন মনের ভাব।

যাত্রীরা জানান, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে এখ পারাপার হতে গেলে পদ্মাসেতুর নিচ দিয়েই যেতে হয়। দূর থেকে দেখতে দেখতে সেতুর নিচ দিয়ে যখন নৌযান অতিক্রম করে তখন আনন্দ আর বিস্ময়বোধ জাগে মনে। আর কিছুদিন পরে সেতুর উপর দিয়েই পদ্মা পার হওয়া যাবে! দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে। এই আনন্দের শেষ নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীত মৌসুমের শুরুতেই প্রমত্ত পদ্মার বুকে এখন খন্ড খন্ড চর জেগেছে। শীত মৌসুমে পুরো পদ্মাজুড়েই থাকে একটা প্রশান্তির ছায়া! নেই তীব্র স্রোত, আগ্রাসী ভাব। নেই ঘোলা পানিও। টলমলে আয়না-স্বচ্ছ পানি কেটে চলছে নৌযান। ঢেউয়ের ছন্দ তুলছে টলমলে পানিতে।

কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুট। এক প্রান্তে মাদারীপুর জেলার শিবচর অন্যপ্রান্ত মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া। এই রুটে যাতায়াত করলে পদ্মার এমন রূপই চোখে পড়ে। তবে এমন প্রাকৃতিক রূপ ছাপিয়ে জনসাধারনের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। আর এই কারনেই ঢাকাগামী দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের কাছে এরুটের লঞ্চযাত্রা হয়ে উঠেছে আনন্দদায়ক ও তৃপ্তময়।

কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে চলাচলকারী লঞ্চ যাত্রীদের চোখে মুগ্ধ হয়ে ধরা দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু! জাজিরা পয়েন্ট থেকে একের পর এক সারিবদ্ধ স্প্যান দূর থেকে দেখে মনে হয় অজগর সাপের মতো। আর নদীর মাঝের একটি স্প্যানের ঠিক নিচ দিয়েই চলাচল করছে লঞ্চ। ফলে স্বপ্নের এই পদ্মাসেতুকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হচ্ছে এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের!

পদ্মাসেতুকে খুব কাছ থেকে দেখতেই লঞ্চ যাত্রায় বেড়েছে যাত্রীদের পরিমান। সাধারন যাত্রীদের সাথে আলাপ করলে এমনটাই বলেন তারা। এছাড়াও শুধু কাছ থেকে সেতু দেখার জন্যও অনেকেই লঞ্চ যাত্রা করে থাকে।

সরেজিমনে দেখা গেছে, কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে লঞ্চ শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময় কিছুটা পথ সামনে গেলেই জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মাসেতুর পুরো অবয়ব চোখে পড়ে। লঞ্চ যতই সামনে যেতে থাকে পদ্মাসেতু ততই কাছাকাছি আসে। মূল নদীতে প্রবেশের আগে চ্যানেল অতিক্রমের সময় পদ্মাসেতুর নিচ দিয়েই যেতে হয় লঞ্চসহ নৌযান। তখন সেতু চোখের সামনে, মাথার ঠিক উপরেই! পদ্মাসেতুর কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় নৌযানের যাত্রীদের উচ্ছ্বসিত হয়ে পদ্মাসেতু দেখতে দেখা গেছে।

লঞ্চের চালক ও শ্রমিকেরা জানান,পদ্মা সেতুর কাজ দেখেই দিন কাটে আমাদের। যাওয়া-আসার পথেই স্বপ্নের সেতু। সেতু হয়ে গেলে আর লঞ্চ চালানো হবে এই পদ্মায়। তবে এই সেতুর ফলে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের চরাঞ্চল। উন্নয়নমূলক নানা কাজ হচ্ছে। পদ্মাসেতু আমাদের স্বপ্ন ছিল। যা এখন দৃশ্যমান!

এখন শুকনো মৌসুম। পদ্মার ক্ষীপ্রতা নেই। লঞ্চ আপন গতিতে পাড়ি দেয় পদ্মা। লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ দেখতে দেখতে সময় কেটে যায় সাধারন যাত্রীদের। পদ্মাসেতুর কাঠামো দেখলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন যাত্রীরা। অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। এতদিন যা ছিল স্বপ্ন আজ তা বাস্তবে ধরা দিয়েছে। দিনরাত বিরামহীন কাজ চলছে সেতুতে। এখন শুধু অপেক্ষা সেতুর উপর দিয়ে পদ্মা পাড়ি দেবার।

উপজেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর