• বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
২১

‘দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২০  

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।  এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষা করা।  আর এজন্য সরকার পুরোপুরি তৈরি, সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণে পর্যালোচনা বৈঠকে এসব কথা বলেন।  বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ইআরডি সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।  বৈঠকে আসন্ন বাজেট নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়। এছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাজেটে যাতে আর্থিক সংকট না হয় সেজন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে।  কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে।  এটা এখন সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশও এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে ‍মুক্ত নয়।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের মতো নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হতে পারে। আমরা এখনো জানি না করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কতদিন প্রলম্বিত হয়। আমাদের আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে এবং করোনাভাইরাসের কারণে অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ আরও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের মতো সার্ভিস সেক্টরগুলোর উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।  যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ের উপর।  তবে যেহেতু বিগত আট মাসে প্রবাসী আয়ে ২১ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল। সেহেতু আগামী চারমাসে প্রবাসী আয় কিছুটা কম হলেও বছর শেষে গত অর্থ বছরের তুলানায় কম হবে না বলে আশা করা যায়।

করোনা মোকাবিলা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি ও মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক এ বিরূপ প্রভাব উত্তরণে বেশ কিছু অবিলম্বে, স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধেও জুন পর্যন্ত অপরাগ হলেও ঋণ খেলাপি করা হবে না।  রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে।  একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিং-এ আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর