• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
৫৭

ড্রাগনের বংশধর এই প্রাণী এখনো টিকে আছে ছোট্ট শরীরে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায় এমন প্রাণীর উদাহরণে গিরগিটির নামটাই সবার মনে পরে। এক গবেষণায় বলা হয়েছিল বর্তমানের গিরগিটি, টিকটিকি নাকি কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবী দাবিয়ে বেড়ানো ড্রাগনের বংশধর। তবে এই তত্ত্ব অনেক বিজ্ঞানী ভুল প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। 

শুরুর দিকের ড্রাগনের আকার আমাদের কল্পনার থেকেও অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হয়। কার্টুন বা বিভিন্ন সিরিজে আমরা যে ড্রাগনদের মুখ থেকে আগুন বের হতে দেখি। তেমনটা আসলেই ছিল কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে এখনো।

 

ড্রাকো ভোলান্স

 

তবে বিভিন্ন সময় পাওয়া ড্রাগনদের জীবাশ্ম থেকে অনুমান করা যায় এদের বড় বড় ডানা ছিল। উড়তেও পারত তারা। বড় বড় পা ফেলে হাঁটার কষ্ট তাদের তেমন একটা করতে হতো না। উড়েই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারত। এমনটাই আমাদের কল্পনা। 

আচ্ছা আজ যে প্রাণীটির কথা বলছি। এই ছবিটি এশিয়ার কোনো এক জায়গাতেই তোলা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যে ব্যক্তি এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। তার সঠিক খোঁজ পাওয়া যায় না। অনেকটা আমাদের কল্পনার ড্রাগনের মতো ডানা আছে এর। তবে শরীরটা খুবই ছোট। এটি আসলে এক প্রজাতির গিরগিটি। একে বলা হয় গ্লিডিং লেজার্ড। আর বৈজ্ঞানিক নাম ড্রাকো ভোলান্স।

 

ড্রাগনের বংশধর এরা

 

অনেকে আবার একে উড়ন্ত গিরগিটি বা টিকটিকি বলে থাকে। লম্বায় ড্রাকো লেজ সহ প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। এদের চ্যাপ্টা দেহ রয়েছে, যা উড়তে সহায়তা করে এবং এটি বর্ণহীন বাদামি বর্ণের। তাদের ডানার নীচের অংশ পুরুষদের নীল এবং স্ত্রীদের থাকে হলুদ। এদের ঘাড়ের নিচে ত্বকের একটি ফ্ল্যাপ রয়েছে। যাকে ডওলাপ বলে। এটি পুরুষদের থাকে উজ্জ্বল হলুদ রঙের আর স্ত্রীদের থাকে নীল ধূসর।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে এদের বসবাস বেশি। এরা পিঁপড়া এবং ছোট পোকা মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে গাছের পাতাও এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে। এই প্রাণীগুলোকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়ে দক্ষিণ ভারতে ফিলিপাইন এবং বোর্নিওর ঘন জঙ্গলে দেখা যায়। এরা নিজেদের মতো করেই বেড়ে ওঠে, প্রজনন করে।

 

উড়ন্ত গিরগিটিও বলা হয় একে

 

পুরুষরা অত্যন্ত সাহসী আর একটু মেজাজি ধরনের হয়। কেননা শিকার ধরতে কিংবা শত্রুকে জব্দ করতে তিন চার গাছ পর্যন্ত ধাওয়া করে। এরা খুব বেশি মাটিতে থাকে না। অবশ্য ডিম পাড়ার জন্য স্ত্রীদের নিচে আসতে হয়। এরা মাটিতে একটি ছোট গর্ত তৈরি। এরপর যেখানে সে প্রায় পাঁচটি ডিম দেয় এবং পরে গর্তটি ময়লা দিয়ে আবার ঢেকে দেয়। যাতে ডিমগুলো সুরক্ষিত থাকে। তারপর সেগুলো রেখে চলে। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার পর সেগুলো আবার নিজেদের মতো করে বাঁচতে শেখে।