• রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৭

  • || ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
১৭৬

চলতি বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর অবশিষ্ট ১০টি স্প্যান বসানো হবে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২০  

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর অবশিষ্ট ১০টি স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের জুনে সেতুর ৩১তম স্প্যান বসানো হয়। এরপর আর কোনও স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা ও তীব্র স্রোতের কারণেই এটি সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে এসব কারণে  সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবশেষ স্প্যান ‘২এফ’-এর ওয়েল্ডিং শুরু হওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বেশ খুশি। কারণ সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্প্যান সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ইতোমধ্যেই ৩১টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। চীনে তৈরি করা এসব স্প্যান এখন প্রকল্প এলাকায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবশেষ চলতি বছরের ১০ জুন সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৫ এবং ২৬ নম্বর পিয়ারের (খুঁটির) ওপর বসে সেতুর ৩১তম স্প্যান। ৩১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়। তীব্র স্রোতের কারণেই প্রায় চার মাস সেতুতে কোনও স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। স্বাভাবিক নিয়মে সাধারণত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর পদ্মায় পানি ও স্রোত উভয়ই কমতে শুরু করে। কিন্তু এ বছরের অক্টোবরেও বাড়ছে পানি ও স্রোত। এই স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্প্যান বসানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তাদের আশা কোনোভাবেই ১৫ অক্টোবরের পর পদ্মার এই পানিপ্রবাহ থাকবে না। ১৫ অক্টোবরের পর পানি বৃদ্ধি ও স্রোত দুটোই কমতে থাকবে। এ সময় দ্রুতগতিতে স্প্যান বসানোর কাজ চলবে।   

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় থাকা মূল সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া এবং পাচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পর বদলে যাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির চালচিত্র।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গত চার মাসে কোনও স্প্যান বসানো না গেলেও এ সময়ই প্রস্তুত করা হয়েছে ছয়টি স্প্যান। পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেই এগুলো বসানোর কাজ শুরু হবে। কারণ এরই মধ্যে সেতুর মোট ৪২টি পিয়ারের কাজ শেষ হয়েছে। নদী শাসনের অগ্রগতির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। এর আগেই মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় এরই মধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি শতকরা ৮১ ভাগেরও বেশি। এখন চলছে সেতুর ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য ডেক ও স্লাব স্থাপনের কাজ।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মায় পানি ও স্রোত না কমলে স্প্যান বসানোর কাজ চালানো সম্ভব নয়। কারণ, স্প্যানগুলো বসানোর জন্য পদ্মায় পানির লেভেল প্রয়োজন ৪ দশমিক ৪৮ মিটার, যা এখন রয়েছে ৫ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায়। ১৫ অক্টোবরের পর পানি কমতে শুরু করলেই স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হবে। আশা করছি, চলতি মাসেই দুটি স্প্যান বসনো যাবে। সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৩২তম স্প্যান বসবে ৪নং ও ৫নং খুঁটির উপরে।’ বাকি সব স্প্যান বসানোর কাজ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আব্দুল কাদের আরও জানিয়েছেন, সেতুর এক নম্বর মডিউলে ‘১এ’, ‘১বি’, ‘১সি’, ‘১ডি’সহ মোট ছয়টি স্প্যান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে প্রথম চারটি স্প্যান বসবে এক নম্বর মডিউলে। প্রথম চারটি স্প্যানের মধ্যে ‘১ডি’ বসবে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটিতে। ‘১এ’ বসবে ৩ ও ৪ নম্বর খুঁটিতে, ‘১বি’ বসবে ২ ও ৩ নম্বর খুঁটিতে এবং ‘১এ’ বসছে যাচ্ছে ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে। মধ্য সেপ্টেম্বরে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটিতে ৩২তম স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে ১৫ অক্টোবরের পর পানি কমতে শুরু করলেই ৩২তম স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হবে। এর ১০ দিন পরই বসবে ৩৩তম স্প্যান ৩ ও ৪ নম্বর খুঁটিতে। এখন একই সঙ্গে দুটি ‘লিফটিং ফ্রেমও ব্যবহার করা হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্প্যানগুলো বসবে। বাকি ছয়টি স্প্যানই বসবে ২ নম্বর মডিউলে। ৭ নম্বর খুঁটি থেকে ১৩ নম্বর খুঁটিতে বসবে এই স্প্যানগুলো।

জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ ও তীব্র স্রোতের কবল থেকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে স্প্যান বহনকারী ৩৬শ’ মেট্রিক টন ওজন বহনে সক্ষম ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ ‘তিয়ান হু’ শরীয়তপুরের নড়িয়ার মূল নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। তবে স্প্যান বসানোর দিন-তারিখ নির্ধারিত হলেই তা সরাসরি মাওয়া প্রান্তের ইয়ার্ডে নিয়ে আসা হবে।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তদারকি করছেন। নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ আজ এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সমালোচনা পেছনে ফেলে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। সেতুর কাজ প্রতিদিনই এগিয়ে চলেছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১টি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর চার হাজার ৬৫০ মিটার।

তিনি বলেন, ‘করোনাকালেও থেমে থাকেনি সেতুর কাজ। তবে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে পরিকল্পনামাফিক স্প্যান স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কাজের গতিতে যখন ছন্দপতন তখনও সেতুর ওপর বসেছে একের পর এক স্প্যান।’

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮১ শতাংশ এবং মূল কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ।

উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর