• রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮

  • || ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন

ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২১  

দেশে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৩ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মুজিব কিল্লাসহ ২১৫টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে এ কথা বলেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র ও ৫টি মুজিব কিল্লার উদ্বোধন এবং ৫০টি মুজিব কিল্লার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং আসন্ন ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আবার সবাইকে সতর্ক করছি। আরেকটা ঘূর্ণিঝড় কিন্তু আসছে। সেটা কেবল তৈরি হচ্ছে, কতটুকু যাবে... এখন আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আমরা অনেক আগে থেকেই জানতে পারি। আর সেই বিষয়ে সতর্কতা আমরা নিতে শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ আমরা সতর্ক থাকবো, এই ঝুঁকি হ্রাস করতে পারবো।  

সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেকোনো দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সবাই সচেতন থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।  

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে রোববার নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মধ্যে আন্দামান সাগরে শনিবার দুপুর ২টার পর ওই লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ইয়াস(yaas)।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ হয়ে পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং ঘূর্ণিঝড়টি ২৬ মে নাগাদ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে।

এরই মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশটা একটা বদ্বীপ। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এখানে প্রাকতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। আর তাছাড়া বাংলাদেশে মাঝে মাঝেই মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগও আসে। সবই মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা আরও এগিয়ে যাবো।

বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে দুর্যোগ মোকাবিলার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে দুর্যোগ মোকাবিলার একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে। বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক বলে আমরা মনে করি।  

তিনি বলেন, আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার যে সক্ষমতা সে সক্ষমতা আজকে সারা বিশ্বে সমাদৃত। যে কারণে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের এত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও একটা ছোট ভৌগলিক সীমারেখায় বিশাল জনগোষ্ঠি নিয়েও প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আমরা মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারছি।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে কারণে আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়েছে এখন সারা বিশ্বে কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যেতে পারে তার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন করা, মনিটরিং করার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আসে এটা নিয়ে কাজ করার জন্য গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।  

কষ্ট লাঘবে সরকার সব চেষ্টা করে যাচ্ছে

করোনা ঠেকাতে সরকারের বিধি নিষেধের ফলে মানুষের কষ্ট দূর করতে প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি সেই কষ্টটা লাঘব করতে। তারপরও সকলের সহযোগিতা চাই, আপনারা যদি সুরক্ষিত থাকেন।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি নিজে শুধু সুরক্ষিত থাকছেন না, আপনারা আশপাশে পরিবার তাদের সুরক্ষিত করছেন। এই কথাটা মনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপনারা চলবেন।

অনুষ্ঠানে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।