• বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
যারা সাহায্য চাইতে পারবে না তাদের তালিকা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকরা কেন চিকিৎসা দেবে না, এটা খুব দুঃখজনক : প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নীতিমালা করার নির্দেশ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: অর্থমন্ত্রী করোনা: ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা না দিলেই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আজ থেকে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৩৬

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২০  

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রপ্তানির অর্থ প্রত্যাবাসন এবং আমদানি পণ্য দেশে আনার সময়সীমা চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে কেউ কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তার ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার চিন্তা-ভাবনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কোনো গ্রাহক জানুয়ারি-জুন সময়ে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার ঋণ যেন শ্রেণিকৃত করা না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের এমন প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। বর্তমানে কোনো ঋণ ছয় মাস অপরিশোধিত থাকলে সাব স্ট্যান্ডার্ড, নয় মাস থাকলে নিম্নমান এবং এক বছর থাকলে ক্ষতিজনক মান বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া সাব স্ট্যান্ডার্ডের আগের অবস্থা স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট বা এসএমএ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যাংক বা গ্রাহক চাইলে কেস টু কেস ভিত্তিতেও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে।
বিজিএমইএর পরিচালক শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নানা সুবিধা চাওয়া হয়েছে। তাদের দাবির আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছেন।
সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশ থেকে পণ্য খালাসে দেরি হচ্ছে। আবার বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিকারকরা দেরিতে পণ্য পাঠাতে বলছেন। এ অবস্থায় রপ্তানির অর্থ দেশে আনার সর্বোচ্চ সময়সীমা চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২০ দিনের মধ্যে রপ্তানির অর্থ দেশে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রে এলসির দেনা পরিশোধের পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে পণ্য দেশে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় পার হলে তিনি ব্যাংকিং সুবিধা পেতে সমস্যায় পড়েন। আবার রপ্তানিকারক নির্ধারিত হারে প্রণোদনা পান না।
জানা গেছে, আমদানি পণ্য এবং রপ্তানির অর্থ দেশে আনার সর্বোচ্চ সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংকগুলো এক বছরের জন্য বাকিতে পণ্য আমদানির এলসি খুলতে পারে। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ খাতের পণ্য আমদানিতে এক বছর সময় পাওয়া যায়। আর শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের বাকিতে আনা যায়। তবে উভয় ক্ষেত্রে ছয় মাস করে সময় বাড়িয়ে এক বছর এবং দেড় বছর করা হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে ১৯৮৯ সাল থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিশেষ ঋণ সুবিধা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ নামে পরিচিত এ তহবিল থেকে ছয় মাস মেয়াদে ঋণ নেওয়া যায়। পরে সময় বাড়িয়ে নয় মাস করা যায়। জানা গেছে, এখানে প্রতি পর্যায়ে তিন মাস বাড়ানো হচ্ছে। এর মানে প্রথমেই একজন রপ্তানিকারক নয় মাস মেয়াদে ঋণ নিতে পারবেন। পরে আরও তিন মাস বাড়িয়ে এক বছর করা যাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির। একই সঙ্গে বিদেশফেরত বা অন্য কোনো কারণে করোনা সন্দেহে কোনো কর্মকর্তা কোয়ারেন্টাইনের জন্য ছুটি চাইলে তা মঞ্জুর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পর্যায়ে করোনা বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে মহাব্যবস্থাপকদের থেকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর