• মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৬ ১৪২৬

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
৩০

কাছে আসার গল্প, না ভ্রূণ হত্যার মিছিল?

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

 


কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সামান্য এক টুথপেস্ট ‘ক্লোজআপ’ কেন কাছে আসার গল্প শোনায়? কিংবা গ্রামীণফোন কেন ঈদের নাটক বানাতে যায়? এগুলো আসলে সরাসরি প্রোডাক্ট মার্কেটিংয়ের সাথে জড়িত না। এগুলো হল ব্র্যান্ড মার্কেটিং। একটা প্রোডাক্ট সরাসরি কিনতে না বলে সেটাকে লাইফস্টাইলের সাথে জুড়ে দেওয়া, ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো।

ব্র্যান্ড ভ্যালু ঠিক রাখতে বা বাড়াতে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো নিয়মিত ক্যাম্পেইন চালায়। এমনভাবে আপনার জীবনের বিভিন্ন অ্যাসপেক্টের সাথে জড়াতে চায় যা তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ধারেকাছেও নেই। ক্লোজআপের কথাই ধরুন—অন্যকোনো পণ্য হলেই বরং এদের বেশি মানাতো। নাম ক্লোজআপ, টুথপেস্ট; ডাকছে ব্যভিচারের দিকে। এই হলো ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে গিয়ে ব্র্যান্ড মার্কেটিংয়ের অবস্থা।

ইউনিলিভার, গ্রামীণফোন যেটার কথাই ধরি, এদের সবচেয়ে বেশি টাকা ঢালতে হয় এই ব্র্যান্ড ভ্যালু ঠিক রাখতে। আর এখানে আঘাতই এরা সবচেয়ে কম সহ্য করে। আপনারা লক্ষ করুন, এত লেখালেখি, এত বাদ-প্রতিবাদের পরও এরা কিন্তু নাটক প্রচার করবে। আবার এখন ‘কাছে আসার রিকশা’ও দিচ্ছে, কয়েক বছর পর তা ‘কাছে আসার বিছানা’য় পরিণত হবে। 

গতকালকের খবর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে থেকে ১২ সপ্তাহ বয়সী একটি মানবভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা ভ্রূণটি ফেলে রেখে গেছে জানা যায়নি। প্রতিটি মানবভ্রূণই একেকটি মানবসন্তান। ভ্রূণ হত্যা মানে মানবহত্যা। প্রতিবছর যে দেশে লক্ষ লক্ষ শিশু অ্যাবোরশন নামক হত্যার শিকার হয়, ওদের ফেলে রেখে যাওয়া হয় রাস্তায়, ডাস্টবিনে—এদের হত্যাকারীদের লিস্টে এই কাছে আসার গল্পের ফেরিওয়ালারাও আছে, প্রত্যক্ষভাবে। 

একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দিই। বাংলাদেশে বছরে কত সংখ্যক গর্ভপাত হয় তার একটি জরিপ করেছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন বাংলাদেশ’ (বাপসা)। তারা মাঠপর্যায়ে গর্ভপাতের ওপর একটি জরিপ চালায়। ২০১৭’র মার্চে তা প্রকাশ করে গাটম্যাচার। এ জরিপে বলা হয়েছে,

- ২০১৪ সালে ১১ লাখ ৯৪ হাজার অনিরাপদ গর্ভপাত হয়েছে।
- এ হিসাবে গড়ে দিনে ৩ হাজার ২৭১টি গর্ভপাত করা হয়েছে।
- গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৪ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে বছরে হাজারে ২৯ জন গর্ভপাত করান।

ওরা আসলে কাছে আসার গল্প প্রমোট করে না, ওরা যিনা ব্যভিচার, শিশুহত্যা, পরকীয়া, বিয়ে ভেঙে দেওয়া এসব প্রমোট করে। আগের বছরগুলোতে কিছু গল্পে বিয়ে ভেঙে দেওয়া, হিজাবি মেয়ের প্রেম এসবও দেখানো হয়েছে।

তাই প্রথমেই আঘাত হানা উচিত তাদের ব্র্যান্ড-ভ্যালুতে। প্রথমত, খুব বেশি ফায়দা না হলেও আমাদের ক্লোজআপ বয়কট করা উচিত। আর অবশ্যই যা করা উচিত তা হলো, কাছের আসার গল্পের নামে ভ্রূণহত্যার মিছিল থামিয়ে দিতে হবে। এদের চিনিয়ে দিতে হবে মানবহত্যাকারী হিসেবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

‘যারা চায় যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।’ [সুরা নুর, ২৪ : ১৯]

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর