• শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৯ ১৪২৭

  • || ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
ব্রেকিং:
১৭২

উন্নয়নের ছোঁয়ায় পবিপ্রবি এখন সমৃদ্ধির পথে

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০২০  

দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০০ সালের ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর  শিক্ষাক্ষেত্র তৈরি করতে পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৯টি অনুষদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন অনুষদ হিসেবে শুধু কৃষি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং , মৎস্য বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, এনিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারী মেডিসিন, নিউট্রিশন ও ফুড সায়েন্স, ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড এ্যাডমিনিশট্রেশন অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি৷ 

এছাড়া পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ থেকে ৩৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছ। কৃষি কলেজের পুরনো অবকাঠামোর উপরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমান সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় ও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. হারুনর রশীদের প্রচেষ্টায়  বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকতর উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি ৪৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। 

‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দশ তলা বিশিষ্ট শেখ রাসেল ও শেখ হাসিনা হল, ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক আধুনিক ব্যায়ামাগার,  অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম,  শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক দশ তলা আবাসিক ভবন, আধুনিক রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে।  এছাড়াও পুরাতন হল ও একাডেমিক ভবনের আধুনিকায়ন করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। কাজগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে অবকাঠামোগত দিক থেকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অপরদিকে, সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে মেরিন ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় ব্লু-ইকোনমি ও সমুদ্র গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট খোলার কাজ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হরুনর রশীদ এ কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করেন।  এরই ধারাবাহিকতায় সরেজমিন পরিদর্শন, যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও সক্ষমতা যাচাই পূর্বক কুয়াকাটায় মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট খোলার অনুমোদন দেয় ইউজিসি। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,  ইনস্টিটিউটটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকার নতুন পাড়া নামক স্থানে ৫০ একর জমি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট চালু হলে বিশাল সমুদ্র সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির এ অগ্রযাত্রায় বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদের কর্মতৎপরতা ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরা মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘বর্তমান উপাচার্যের কর্মদক্ষতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পবিপ্রবি দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।’

বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতা জানান, ‘বর্তমান উপাচার্য হারুনর রশীদের আন্তরিকতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গতানুগতিক সিলেবাসের পরিবর্তে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সিলেবাস প্রণয়ন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও বিস্তারিত তথ্য সংবলিত ডায়নামিক ওয়েবসাইট নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে।’

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একটি যুগোপযোগী অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে অভিমত শিক্ষকদের। 
এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকতর উন্নয়নের জন্য ৪৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

এ সময় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আরও কাজ করার সুযোগ পেলে পবিপ্রবিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে।’

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর