• বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৪ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাদারীপুর দর্পন
১৮৫

আশুরার রোজা রাখুন ২৯-৩০ অথবা ৩০-৩১ আগস্ট

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২০  

হিজরি সনের সম্মানিত মাস মহররম। এবার এ মাসের আশুরা হবে ৩০ আগস্ট রোববার।

সম্মানিত এ মাসের অন্যতম আমল হলো রোজা পালন করা। প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরায় নিজে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবাদের রোজা রাখতে বলেছেন। বর্ণনা করেছেন আশুরার রোজার অসামান্য ফজিলত ও মর্যাদা।

এ মাসকে সম্মান দেখানোর অন্যতম কারণ হলো- মাসটির নাম ’মহররম’। এর অর্থ- সম্মানিত। আর হাদিসেও এ মাসটিকে আল্লাহর মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটি (মহররম) শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস।’ (মুসলিম)।

আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করে হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারাহ হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)।

আশুরার রোজা রাখার কারণ বর্ণনা ও নির্দেশ:

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?
তারা (ইহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তায়ালা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন) এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই (হজরত) মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই (হজরত) মুসা (আলাইহিস সালাম) এর (আদর্শ পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখতে বললেন।’ (বুখারি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)।

আশুরার রোজা:

বিশ্বনবীর নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার সময়টি এসেছে গেছে। ১০ মহররম ঠিক রেখে আগের কিংবা পরের দিন মিলিয়ে নেয়া উত্তম। সে হিসেবে চাইলে ২৯-৩০, শনি ও রোববার রোজা রাখা যায়। আবার চাইলে ৩০-৩১ আগস্ট রোববার ও সোমবার রোজা রাখা যায়।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার এ রোজা পালনের মাধ্যমে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করার তাওফিক দান করুন। বিগত এক বছরের গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।