• বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৮ ১৪২৬

  • || ০৭ শা'বান ১৪৪১

মাদারীপুর দর্পন
১৩২

আরো একটি স্বপ্ন পূরণ হলো শিবচরসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর

মাদারীপুর দর্পন

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২০  

শিবচর প্রতিনিধি: আরেকটি স্বপ্নের বাস্তবরূপ পেলো শিবচরসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসী। পদ্মাসেতুর সাথে সাথে বহুল প্রত্যাশিত ঝকঝকে সড়কপথ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষেরা তাদের আরো একটি স্বপ্নের বাস্তব সুবিধা ভোগ করতে যাচ্ছে আজ থেকেই। বৃহস্পতিবার ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল কাঙ্খিত এক্সপ্রেসওয়েটির উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনের খবর পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন শিবচরবাসী।
 

বিশেষ করে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোলঘেঁষে যাওয়ার কারণে শিবচরবাসী নিজেদের সড়ক বলে দাবি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন এই এক্সপ্রেসওয়েকে। পদ্মাসেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে শুরু করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়ের দীর্ঘপথটুকুই শিবচর ভূ-খন্ডের উপর। এক্সপ্রেসওয়ের দিনরাত কাজের সাক্ষী শিবচরবাসীর স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। আর এর মধ্য দিয়ে সড়ক পথে যোগাযোগের এক বিস্ময়কর পরিবর্তন আসছে। যদিও পদ্মাসেতু না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি ঢাকা থেকে ভাঙ্গা আসা যাচ্ছে না তারপরও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ত্রিশ মিনিট। আবার পদ্মা পার হয়ে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সড়কপথের ভোগান্তি অবসান হচ্ছে।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কাঙ্খিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের দ্বার খুলে দেয়া হলো। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে। যেখানে মূল সড়কে থাকবে চারটি লেন। সঙ্গে সড়কের দুই পাশে থাকছে সাড়ে ৫ মিটার করে (একেক পাশে দুই লেন করে) দুটি সার্ভিস লেন। এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে টোল দিতে হবে সব ধরনের যানবাহনকে। এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হয়ে গেলে ঢাকা থেকে ভাঙা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হওয়ার সংবাদে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্য খুলতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নিয়ে যাতায়াত করতে হতো এ অঞ্চলের মানুষের, সেখানে মাত্র ঘন্টাখানেকের মধ্যেই দ্রুত পৌছতে পাড়ার স্বপ্ন এখন মাত্র কাছে। এক্সপ্রেস হাইওয়েটি উদ্বোধনের খবরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

জানা যায়, ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। সদ্য নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এই দূরত্ব পার হতে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। আর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট। অবশ্য এখনই সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সুফল ভোগ করা যাবে। তবে এখন ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে।
 

শিবচরের সূর্যনগর এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, চোখের সামনে এই সড়কের কাজ শেষ হলো। সকাল-বিকাল শুধু কাজ দেখে গেছি। অনেক দ্রæত এই সড়কের কাজ চলেছি। অবশেষে সড়কটি চালু হলো। এই সড়ক দেখে মনে হয় এটা বাংলাদেশ না, অন্যকোন দেশ। আমরা গর্বিত এই সড়কটি পেয়ে।’
 

তারা আরো বলেন,‘মহাসড়কটি চালু হওয়ায় শিবচর থেকে ঢাকা যেতে অনেক সময় কম লাগবে। আগে যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লাগতো, এখন থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ঢাকা যেতে পারবো।’
 

স্থানীয়রা জানান, আমরা দক্ষিণবঙ্গের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যে, সাহসের সাথে তিনি পদ্মা সেতুর মত সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা মহাসড়কটি চালু হওয়ায় আমরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাব।

 

উপজেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর